ইরানের ওপর অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক অবরোধের পথে ট্রাম্প: ওয়াশিংটনের সামনে বিকল্প কী কী?

১৬ আগস্ট ২০২৬ - ১৭:৫৫
4 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
ইরানের ওপর অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক অবরোধের পথে ট্রাম্প: ওয়াশিংটনের সামনে বিকল্প কী কী?
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি:রয়টার্স

ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও তীব্র করার কঠোর অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ঘোষণা দেন যে, আগামী সপ্তাহ থেকেই তেহরানের বিরুদ্ধে এমন সব নজিরবিহীন ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যা ইতিহাসে আগে কখনো দেখা যায়নি।

​সত্তরের দশকের শেষভাগ থেকে পারমাণবিক কর্মসূচি, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সমর্থনের অভিযোগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইরানের ওপর নানা ধরনের নিষেধাজ্ঞা, বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করে আসছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ওয়াশিংটন অতিরিক্ত সামুদ্রিক, জ্বালানি ও আর্থিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি নৌ অবরোধও শুরু করেছে।

​মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে এ পর্যন্ত ১,০০০-এরও বেশি ব্যক্তি, জাহাজ ও বিমানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলোতে ইরানের ছায়া তেল বহর, নৌ বিমা কোম্পানি, অস্ত্র ক্রয়ে সাহায্যকারী ব্যক্তি ও সত্তা এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জগুলোকে নিশানা করা হয়েছে—যার মাধ্যমে ইরান-সংশ্লিষ্ট প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের ডিজিটাল মুদ্রা ফ্রিজ করা হয়।

​বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে নিম্নলিখিত বিকল্পগুলো প্রয়োগ করতে পারে:

​চীনা ‘টিপট’ শোধনাগারে নিষেধাজ্ঞা: চীনের স্বাধীন তেল শোধনাগার বা ‘টিপট’ কোম্পানিগুলো দেশটির মোট শোধন ক্ষমতার এক-চতুর্থাংশ নিয়ন্ত্রণ করে। অ্যানালিটিক্স ফার্ম কেপলারের ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, চীন জলপথে পরিবাহিত ইরানি তেলের ৮০ শতাংশেরও বেশি ক্রয় করে এবং এই বাণিজ্যের বড় অংশই গ্রহণ করে এই টিপট শোধনাগারগুলো। যদিও গৌণ নিষেধাজ্ঞার ভয় রয়েছে, তবুও মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে তাদের যোগাযোগ কম থাকায় এই শোধনাগারগুলো মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব থেকে কিছুটা মুক্ত থাকে।

​চীনা ব্যাংকে গৌণ নিষেধাজ্ঞা: ট্রাম্প প্রশাসন চীনের ছোট ও মাঝারি ব্যাংকগুলোর ওপর গৌণ নিষেধাজ্ঞা দিলেও দেশটির প্রধান প্রধান বড় ব্যাংকে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা দেওয়া থেকে বিরত থেকেছে। ওয়াশিংটন যদি বড় চীনা ব্যাংকগুলোর ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, তবে তা বৈশ্বিক ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে তেহরানকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করতে পারে। তবে এটি বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে পাল্টা প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের ঝুঁকি তৈরি করবে। ট্রাম্প ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আসন্ন বৈঠকের আগে ওয়াশিংটন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে চায়, বিশেষ করে প্রযুক্তি খাতের জন্য জরুরি খনিজ আমদানিতে বাধা আসার আশঙ্কায়।

​‘হ্যাক-এ-মোল’ ধাঁচের ধরপাকড়: মধ্যপ্রাচ্য ও চীনে ইরানি তেলের রাজস্ব সংগ্রহের ছদ্মবেশী পথগুলো বারবার বন্ধ করার নীতি বজায় রাখতে পারে ওয়াশিংটন। যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি সংস্থা বন্ধ করলে ইরান নতুন আরেকটি সংস্থা গড়ে তোলে, ফলে এই কৌশল দীর্ঘমেয়াদে তেমন কাজ করছে না। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালীতে নৌ অবরোধ কার্যকরের পাশাপাশি বিমান পরিবহনে নিষেধাজ্ঞার মাত্রা বাড়ানো হতে পারে।

​স্থলপথ অবরোধ: ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের প্রতিবেশী দেশ—ইরাক, তুরস্ক, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার সহায়তায় স্থলপথ অবরোধের কথা বিবেচনা করতে পারে। সীমান্ত দিয়ে খাদ্য, পোশাক ও পণ্য পরিবহন বন্ধ হলে দেশটিতে অভ্যন্তরীণ চাপ সৃষ্টি হতে পারে, তবে দুর্গম সীমান্ত ও আঞ্চলিক ভূরাজনীতি বিবেচনায় এটি বাস্তবায়ন অত্যন্ত কঠিন।

​গৌণ শুল্ক আরোপ: যেসব দেশ ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রাখবে, তাদের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক বসানোর হুমকি ট্রাম্প দিয়ে আসছেন। সম্প্রতি মার্কিন সিনেটে অনুমোদন পাওয়া নতুন বিলের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের হাতে এই ধরনের অতিরিক্ত শুল্ক বসানোর নতুন আইনি ক্ষমতা আসতে পারে।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0