ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প ও সুনামি আতঙ্ক, নিহত অন্তত ২

১৫ আগস্ট ২০২৬ - ০৮:৩২
2 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প ও সুনামি আতঙ্ক, নিহত অন্তত ২
ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব নুসা টেঙ্গারা প্রদেশের সিক্কায় ভূমিকম্পের পর এল. সে বন্দরের একটি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত ভবন। ছবি: রয়টার্স

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে ৭.৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। আজ শনিবার ভোরের দিকে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পের পর অঞ্চলজুড়ে একের পর এক একাধিক আফটারশক (মৃদু কম্পন) অনুভূত হয়। এতে অন্তত দুজন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও একজন।

​ভূমিকম্পের পর পরই দেশটির উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে সুনামি সতর্কতা জারি করেছিল কর্তৃপক্ষ। সেসময় সমুদ্রতীরবর্তী কিছু এলাকায় ১ মিটারেরও (৩ ফুট) কম উচ্চতার সুনামির ঢেউ রেকর্ড করা হয়। তবে পরিস্থিতি পর্যালোচনার প্রায় তিন ঘণ্টা পর এই সুনামি সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়।

​ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ প্রফোর্সন সংস্থা (বিএনপিবি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দেশটির পূর্ব নুসা তেঙ্গারা প্রদেশের সিক্কা রেজেন্সিতে ভূমিকম্পের কারণে অন্তত দুজনের মৃত্যু হয়েছে এবং একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

​রয়টার্স কর্তৃক যাচাইকৃত ফেসবুকের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, সিক্কা রেজেন্সির ফ্লোরেস দ্বীপের মূল শহর মৌমেরে বন্দরের একটি ভবনের অংশ ধসে পড়ে ধুলোবালি ও ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছে। প্রবল ঝাঁকুনির সময় আতঙ্কে মানুষ রাস্তায় চিৎকার করতে করতে ছোটাছুটি শুরু করে।

​দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা আরও জানায়, পূর্ব নুসা তেঙ্গারা, পশ্চিম নুসা তেঙ্গারা ও দক্ষিণ সুলাওয়েসির একাংশজুড়ে এই কম্পন প্রবলভাবে অনুভূত হয়েছে। একাধিক এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, প্রায় এক মিনিট ধরে অবিরাম ঝাঁকুনি স্থায়ী ছিল। শক্তিশালী ঝাঁকুনির মুখে অধিকাংশ মানুষ বসতবাড়ি ছেড়ে খোলা জায়গায় আশ্রয় নেন।

​স্থানীয় কম্পাস টিভি তাদের প্রচারিত ভিডিও চিত্রে দেখায়, পূর্ব নুসা তেঙ্গারা প্রদেশের এন্দে জেলার একটি হাসপাতালের রোগীদের নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত বাইরে বের করে আনা হয়। এছাড়া কম্পাস ডটকম জানিয়েছে, ভূমিকম্পের প্রভাবে অন্তত একটি স্থানে ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে।

​ইন্দোনেশিয়ার ভূ-পদার্থবিজ্ঞান সংস্থা (বিএমকেজি)-র তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ৫৮ মিনিটে (২১৫৮ জিএমটি) প্রথম কম্পনটি অনুভূত হয়। ভূগর্ভস্থ ১৫ কিলোমিটার (৯ মাইল) গভীরে এর উৎপত্তিস্থল ছিল। প্রথম ঝাকুনির পর ওই অঞ্চলে বেশ কয়েকটি আফটারশক দেখা দেয়।

​এদিকে অস্ট্রেলিয়ার সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র জানিয়েছে, সমুদ্রতলের এই শক্তিশালী ভূমিকম্পের কারণে অস্ট্রেলিয়ার মূল ভূখণ্ড বা এর অধীনস্থ কোনো দ্বীপে সুনামির কোনো ঝুঁকি নেই।

সুত্র:রয়টার্স

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0