হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মুখোমুখি দাবি

১৩ আগস্ট ২০২৬ - ১৭:৩২
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মুখোমুখি দাবি
ওমানের মুসান্দাম থেকে দেখা হরমুজ প্রণালী। ছবি সংগৃহীত

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে বিপরীতমুখী দাবি উত্থাপন করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রণালীটির ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে বলে দাবি করার একদিন পরই তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। ইরানের আধাসামরিক বাহিনী বাসজের প্রধান হোসেইন তায়েব নিশ্চিত করেছেন যে জলপথটি সম্পূর্ণরূপে ইরানের নিরাপত্তাবেষ্টনী ও নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে।

​ইরানের অর্ধ-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, বাসজ প্রধান হোসেইন তায়েব বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের অবস্থান ও জনপ্রিয়তা ক্ষুণ্ন করতে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালীতে নতুন করে সংঘাত উসকে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিমান ও নৌবাহিনী সংক্রান্ত নানা দাবি করলেও শেষ পর্যন্ত তারা সফল হতে পারেনি। তিনি আরও জানান, সম্পূর্ণ নিরাপত্তার মধ্য দিয়েই ইরান এই প্রণালীতে তাদের নীতি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।

​গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়লে তেহরান কার্যকরভাবে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যে এই জলপথ অত্যন্ত সংবেদনশীল, কারণ সংঘাতের পূর্বে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়েই পরিবহণ করা হতো।

​সংঘাত শুরু হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজ ও সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর নৌ-অবরোধ আরোপ করে, যদিও একই সময় অ-ইরাণীয় পতাকাবাহী জাহাজের চলাচলের নিরাপত্তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ওয়াশিংটন। পরবর্তী সময়ে জুন মাসে উভয় দেশ একটি অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হয়, যেখানে দ্রুত নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনার শর্ত অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে চুক্তি মেনে চলার বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় বিরোধ তৈরি হওয়ায় কয়েক সপ্তাহের মধ্যে চুক্তিটি ভেস্তে যায়। এর পর থেকে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলা ও পরবর্তীতে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে বিমান হামলা শুরু হলে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে।

​এদিকে ইরানের জ্যেষ্ঠ সামরিক-রাজনৈতিক কর্মকর্তা রসুল সানাই-রাদ জানান, অন্তর্বর্তী চুক্তির প্রতিশ্রুতিগুলো অপর পক্ষ পুরোপুরি নিশ্চিত না করা পর্যন্ত ইরান কোনোভাবেই হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করবে না। তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একক সিদ্ধান্তে এই জলপথ চালু করতে পারবে না এবং ভবিষ্যতে কোনো সামরিক সংঘাত সৃষ্টি হলে ইরান আরও জোরালো ও আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0