হরমুজ প্রণালী ও লোহিত সাগরে নতুন হামলা, মার্কিন-ইরান শান্তি আলোচনায় আবারও অচল অবস্থা

১২ আগস্ট ২০২৬ - ০৯:৩৪
4 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
হরমুজ প্রণালী ও লোহিত সাগরে নতুন হামলা, মার্কিন-ইরান শান্তি আলোচনায় আবারও অচল অবস্থা
ছবি: সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সংঘাত নিরসনের সম্ভাব্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নতুন করে স্থবির হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ দুটি নৌপথে পৃথক জাহাজ হামলার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার সমুদ্রপথে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। একই সঙ্গে তেহরান পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, ওয়াশিংটন তাদের শর্ত না মানা পর্যন্ত বিশ্বজ্বালানি পরিবহনের প্রধান মাধ্যম 'হরমুজ প্রণালী' বন্ধ রাখা হবে।

​উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রবেশদ্বার ও বাব এল-মানদেব প্রণালীর কাছে ঘটে যাওয়া এসব সংঘাত বিশ্ববাজারকে আবারও অস্থির করে তুলেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দফায় দফায় চুক্তি নিষ্পত্তির ইঙ্গিত দিলেও বাস্তবে যুদ্ধের অবসান ঘটার কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বিশ্ব শেয়ারবাজারে দরপতন লক্ষ্য করা গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্র্যান্ড ক্রুড তেলের দাম ১.৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৮৮.৯১ ডলারে এবং মার্কিন ক্রুড তেলের দাম ১.৩ শতাংশ বেড়ে ৮৩.২০ ডলারে পৌঁছেছে।

​লোহিত সাগর ও ওমান সাগরে রক্তক্ষয়ী সংঘাত

​লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রবেশদ্বার বাব এল-মানদেব প্রণালীতে মিসরীয় মালিকানাধীন 'তিহামাহ' নামের একটি ছোট পণ্যবাহী জাহাজে সন্দেহভাজন হুথি হামলায় চারজন ক্রু সদস্য নিহত হয়েছেন। ইয়েমেনের উদ্ধারকারী দল ও কোস্টগার্ড জানিয়েছে, হুথিবিরোধী সামরিক বাহিনীর দুই উদ্ধারকর্মীও এ সময় প্রাণ হারান। চলমান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সমুদ্রগামী জাহাজে হুথি হামলায় ক্রু নিহতের ঘটনা এটিই প্রথম। হুথি নিয়ন্ত্রিত সংবাদ সংস্থা সাবার মতে, গত মাসে সৌদির ওপর নৌ-অবরোধ ঘোষণার পর তারা এবার সামরিক সরঞ্জামবাহী একটি সৌদি জাহাজে হামলা চালিয়েছে, যদিও রিয়াদ এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

​অন্যদিকে, ওমান সাগরে পানামার পতাকাবাহী একটি পণ্যবাহী জাহাজকে অবরুদ্ধ ইরানি বন্দরে প্রবেশের অভিযোগ এনে দুটি হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি এইচ-৬০ হেলিকপ্টার। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, বারবার সতর্ক করার পরও গতি না কমালে জাহাজটির স্টিয়ারিং গিয়ার অকার্যকর করে দেওয়া হয়।

​পাল্টাপাল্টি হুঙ্কার ও কঠোর অবস্থান

​দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব ও দায়িত্বশীলদের বাগযুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা সমন্বয়কারী সংস্থার নবনিযুক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত মহসেন রেজাই জানান, ওয়াশিংটন যদি তাদের জব্দকৃত সম্পদ মুক্তি না দেয় এবং লেবানন ও গাজাসহ পুরো অঞ্চলের যুদ্ধ বন্ধে ইরানের দাবি না মানে, তবে হরমুজ প্রণালী খুলবে না। যুদ্ধের আগে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি তেল ও এলএনজি এই প্রণালী দিয়েই পরিবাহিত হতো।

​এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তিনি কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে ধসিয়ে দেওয়ার নীতি বজায় রাখতে পারেন। একই সঙ্গে গত ৫০ বছরের যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন তিনি। সম্প্রতি ওহাইও সফর শেষে ট্রাম্প দাবি করেন, "হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে"। অন্যদিকে, ইরানের বিপ্লবী গার্ডের উপদেষ্টা মোহাম্মদ রেজা নকদি রাষ্ট্রীয় টিভিতে জানান, প্রয়োজনে শত্রুর ভূমিতেও অভিযান চালানোর সক্ষমতা তৈরি করছে তেহরান।

​গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে ইতোমধ্যে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে, যার প্রতিক্রিয়া হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক মার্কিন সামরিক অবকাঠামো ও মিত্র দেশগুলোতে হামলা চালিয়েছে ইরান।

সুত্র : রয়টার্স

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0