যুক্তরাষ্ট্র শর্ত না মানলে বন্ধই থাকবে হরমুজ প্রণালী: ইরান
যুক্তরাষ্ট্র তার নীতি পরিবর্তন না করলে এবং যুদ্ধ বন্ধে ইরানের দেওয়া শর্তাবলি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ প্রণালী ‘হরমুজ’ বন্ধই থাকবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের নতুন নিযুক্ত সচিব মহসিন রেজায়ি গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) এ সংক্রান্ত বক্তব্য প্রদান করেন। আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম-এ প্রকাশিত উদ্ধৃতিতে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত রেজায়ি বলেন, “যতক্ষণ পর্যন্ত আমেরিকা তাদের আচরণ পরিবর্তন না করবে এবং ইরানের শর্ত মেনে না নেবে, ততক্ষণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করা হবে না।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, যুদ্ধ থামানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যপ্রাচ্যে অর্থাৎ লেবানন ও গাজাসহ পুরো অঞ্চলে হামলা বন্ধ করতে হবে এবং ইরানের জব্দকৃত সম্পদ ফিরিয়ে দিতে হবে। রেজায়ি জানান, এই শর্তগুলো মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, ওমানের সঙ্গে হরমুজ প্রণালীর ট্রানজিট পথ সংক্রান্ত আলোচনা যদি কোনো সমঝোতায় পৌঁছায়ও, তবে প্রণালী বন্ধ থাকার মূল বিষয়টি তার থেকে আলাদা থাকবে বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।
একই দিন সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) আয়াতুল্লাহ খামেনির উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবের জানান, ইরানের দাবি না মানা পর্যন্ত আগ্রাসনকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখা হবে।
ক্ষতিপূরণ দাবি ওয়াশিংটনের
ইরানের নতুন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া না গেলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন দাবি উত্থাপন করেছেন। বিগত ৫০ বছরে সংঘাত ও হামলায় হওয়া ক্ষয়ক্ষতির জন্য তেহরানের কাছে ক্ষতিপূরণ চাওয়া হবে বলে ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “বিগত ৫০ বছরে তাদের সৃষ্ট ক্ষতির বিনিময়ে আমরা অর্থ দাবি করতে যাচ্ছি।” এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, তিনি বর্তমানে সমঝোতার চেষ্টা করছেন, তবে ইরানি কূটনীতিকদের ‘কূটচক্রী’ বলে আখ্যা দেন।
বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার খবর
এদিকে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে আশা প্রকাশ করলেও হরমুজ প্রণালী এবং পার্শ্ববর্তী জলসীমায় নতুন করে জাহাজ আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। বাব এল-মানদেব প্রণালীতে একটি মিসরীয় মালিকানাধীন পণ্যবাহী জাহাজে সন্দেহভাজন হুথি হামলায় চারজন ক্রু নিহত হয়েছেন বলে ইয়েমেনের পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
এছাড়া ওমান উপসাগরে একটি কনটেইনার জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গেছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বরাতে জানা যায়, ইরানের ওপর আরোপিত নৌ-অবরোধ অমান্য করার কারণে মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার থেকে জাহাজটিতে আঘাত হানা হয়। জলপথ অবরোধ ও পাল্টাপাল্টি হামলায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে শঙ্কা বাড়ছে।
সুত্র: রয়টার্স
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











