চীনে শক্তিশালী টাইফুন 'ডলফিন'-এর আঘাত, ১০ লাখের বেশি মানুষ সরানো হলো
চলতি বছরের অন্যতম শক্তিশালী গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় ‘টাইফুন ডলফিন’ চীনের পূর্ব উপকূলে প্রচণ্ড বেগে আঘাত হেনেছে। ঝড়ের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে প্রবল বাতাসের সঙ্গে অতিভারী বর্ষণ শুরু হয়েছে, যা বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্যা ও বিপজ্জনক ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি করেছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে ইতোমধ্যে ১০ লাখের বেশি অধিবাসীকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়েছে দেশটির প্রশাসন।
চীনের জাতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তরের বরাত দিয়ে জানা যায়, ঝেজিয়াং প্রদেশের ইউহুয়ান শহরের উপকূলে টাইফুন ডলফিন আঘাত হানে। আঘাত হানার সময় ঝড়ের কেন্দ্রে বাতাসের গতিবেগ ছিল প্রতি সেকেন্ডে ৪২ মিটার (ঘণ্টায় প্রায় ১৫১ কিলোমিটার), যা স্যাফির-সিম্পসন স্কেলে ক্যাটাগরি-১ মাত্রার হ্যারিকেনের সমতুল্য। চীনে আঘাত হানার আগে ঝড়টি জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় ওকিনাওয়া প্রদেশে তাণ্ডব চালায়; এতে সেখানে অন্তত ৬ জন আহত হন এবং ৫০ হাজারের বেশি গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
টাইফুনের প্রভাবে ঝেজিয়াং, সাংহাই, উত্তর ফুজিয়ান, উত্তর-পূর্ব জিয়াংশি, মধ্য ও দক্ষিণ আনহুই এবং জিয়াংসু প্রদেশের অধিকাংশ এলাকায় অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস জারি রয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, ঝেজিয়াংয়ের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি স্থানে সর্বোচ্চ ২৫০ থেকে ৫০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড হতে পারে।
জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্রের প্রধান পূর্বাভাস কর্মকর্তা ওয়াং হাইপিং জানান, উপকূলে আছড়ে পড়ার পর টাইফুনটি পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে চীনের মধ্য ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে গিয়ে ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়বে। তবে দীর্ঘ সময় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার কারণে পার্বত্য এলাকা এবং ছোট নদীগুলোতে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে।
দুর্যোগ মোকাবিলায় পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে জরুরি সতর্কতা ও লেভেল-৩ সাড়াদান ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। বিমান ও নৌ-পরিবহনে ব্যাপক বিপর্যয় ঘটেছে; শুধু সাংহাইতেই বাতিল করা হয়েছে প্রায় ১,৫০০টি ফ্লাইট এবং সেখান থেকে অন্তত ৩০,৩০০ জন বাসিন্দাকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া শহরের ইয়ংশান বন্দর থেকে পাঁচ শতাধিক ছোট ও মাঝারি জলযান নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে ঝেজিয়াং প্রদেশের ওয়েনঝো শহর থেকে ৯ লাখেরও বেশি মানুষকে সরিয়ে ১,০০০টিরও বেশি আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে এবং ফুজিয়ান প্রদেশ থেকে প্রায় ৯৮,৯০০ জন বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে নেওয়া হয়েছে।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











