হরমুজ প্রণালী ও নৌপথ নিয়ে ওমানের সঙ্গে চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত, মার্কিন শর্ত পূরণের ওপর জোর দিল ইরান

০৯ আগস্ট ২০২৬ - ২০:২০
2 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
হরমুজ প্রণালী ও নৌপথ নিয়ে ওমানের সঙ্গে চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত, মার্কিন শর্ত পূরণের ওপর জোর দিল ইরান
হরমুজ প্রণালীর জাহাজসমূহ। ছবি: রযটার্স

ওমানের সঙ্গে কৌশলগত হরমুজ প্রণালীতে নতুন নৌপথ নির্ধারণ সংক্রান্ত একটি সমঝোতা চুক্তি একেবারেই চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান। তবে দেশটি পরিষ্কার করে জানিয়েছে, শুধুমাত্র এই সমঝোতার কারণেই আন্তর্জাতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথটি খুলে দেওয়া হবে না। প্রণালীটি চলাচলের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই কয়েকটি পূর্বশর্ত পূরণ করতে হবে।

​ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি রোববার জানান, দুই দেশের সীমানায় অবস্থিত হরমুজ প্রণালীর নতুন জাহাজ চলাচল পথ নির্ধারণের চুক্তি চূড়ান্ত ধাপে রয়েছে। ইরানের মেহর বার্তা সংস্থার বরাতে জানা গেছে, মার্কিন প্রশাসন নির্দিষ্ট শর্তসমূহ মেনে নিলে নতুন এই পথ ধরে বাণিজ্যিকভাবে জাহাজ চলাচল শুরু হবে। একই সময়ে তিনি স্পষ্ট করেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বর্তমানে কোনো প্রত্যক্ষ আলোচনা চলছে না। গত জুন মাসের অন্তর্বর্তী চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি সংলাপ বর্জনের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বর্তমানে কেবল বার্তা আদান-প্রদান করা হচ্ছে।

​অন্যদিকে, মার্কিন এক কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থাকে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী পুনরায় সচল করতে ইরান ও ওমানের চুক্তিটি বেশ কাছাকাছি রয়েছে। চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত হলে এবং বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত অবরোধ তুলে নেবে।

​এদিকে, হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ চালু করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে তেহরান। পাশাপাশি ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহাম্মদ বাকের জোরকাদর মার্কিন হুমকি বন্ধ করা, ইরান ও তার আঞ্চলিক সহযোগীদের ওপর হামলা থামানো, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং অবরুদ্ধ ইরানি সম্পদ মুক্ত করার দাবি জানান।

​সংকট নিরসনে কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত সম্প্রতি অভিযোগ করেছে, হরমুজ প্রণালীতে তাদের তেল কোম্পানির এক জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের জাজান তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে। সৌদির জ্বালানি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, হামলায় শোধনাগারে আগুন লাগলেও পরবর্তীতে তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে এবং কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0