জাপানের ওকিনাওয়ায় আঘাত হেনেছে শক্তিশালী টাইফুন 'ডলফিন', চীনে বন্দর বন্ধ ও বিমান চলাচল বাতিল

০৮ আগস্ট ২০২৬ - ১১:১৩
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
জাপানের ওকিনাওয়ায় আঘাত হেনেছে শক্তিশালী টাইফুন 'ডলফিন', চীনে বন্দর বন্ধ ও বিমান চলাচল বাতিল
জাপানের ওকিনাওয়া প্রিফেকচারের নাহা শহরে টাইফুন ‘ডলফিন’-এর আগমনের পূর্বে প্রবল বাতাস। ছবি: রয়টার্স

জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় ওকিনাওয়া প্রিফেকচারে তাণ্ডব চালিয়েছে শক্তিশালী সামুদ্রিক ঝড় টাইফুন ‘ডলফিন’। ঝড়ের প্রভাবে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন এবং প্রায় ১৪ হাজার বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, ঝড়টি এখন চীনের পূর্ব উপকূলের দিকে অগ্রসর হওয়ায় দেশটি পূর্বসতর্কতা হিসেবে বন্দর ও ফেরি চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে।

​জাপানের আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, শনিবার স্থানীয় সময় সকাল ৬টায় (০৩০০ জিএমটি) ঝড়টি ওকিনাওয়ার কুমে দ্বীপ থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার গতিতে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

​ওকিনাওয়া প্রিফেকচার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঝড়ে আহত হওয়া পাঁচজনই প্রবীণ নাগরিক। বাতাসের তোড়ে পড়ে গিয়ে তিনজনসহ সবাই আঘাত পান, তবে কারোর আঘাতই প্রাণঘাতী নয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় অল নিপ্পন এয়ারওয়েজ (এএনএ) ও জাপান এয়ারলাইন্স ওই অঞ্চলে তাদের ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করেছে।

​ঝড়টির কেন্দ্রে বাতাসের ধারাবাহিক গতিবেগ ঘণ্টায় ১৬২ কিলোমিটার, যা দমকা হাওয়া আকারে ঘণ্টায় ২১৬ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। জাপানের ওকিনাওয়া এবং কাগোশিমা প্রিফেকচারের আমামি দ্বীপ এর প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

​এদিকে, চীনের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র জানিয়েছে, রবিবার গভীর রাত থেকে সোমবার ভোরের মধ্যে টাইফুন ডলফিন দেশটির পূর্ব ও দক্ষিণ উপকূলে আঘাত হানতে পারে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, ঝেজিয়াং প্রদেশের ঝুশান শহর থেকে ফুঝিয়ান প্রদেশের ফুডিং শহরের মধ্যবর্তী কোনো স্থান দিয়ে এটি উপকূলে উঠে আসতে পারে। সে সময় কেন্দ্রের কাছে বাতাসের গতিবেগ প্রতি সেকেন্ডে ৩৮ থেকে ৪৫ মিটার (ঘণ্টায় ৮৫ থেকে ১০১ মাইল) পর্যন্ত হতে পারে।

​আগামী ১২ আগস্ট পর্যন্ত চীনের পূর্বাঞ্চল, বিশেষ করে সাংহাই এবং পার্শ্ববর্তী প্রদেশগুলোতে ভারী বৃষ্টিপাত ও প্রচণ্ড ঝোড়ো হাওয়া অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। পূর্ব ঝেজিয়াংয়ের কিছু এলাকায় ৬০০ মিলিমিটারের (২৩.৬ ইঞ্চি) বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ঝেজিয়াং প্রদেশ তাদের উপকূলীয় টাইফুন সতর্কতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করেছে, বন্দর কার্যক্রম স্থগিতে পাশাপাশি ১৬২টি যাত্রীবাহী ফেরি রুট বন্ধ করে দিয়েছে।

​প্রদেশের নিংবো লিশে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর শনিবার রাত সাড়ে ১১টা থেকে তাদের সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে এবং রবিবারের সব ফ্লাইট বাতিল করেছে। এর আগে শুক্রবার রাতের মধ্যেই সাংহাইয়ের ইয়াংশান বন্দর খালি করা হয়। এছাড়া ইয়াংসি নদীর বদ্বীপ অঞ্চলের বেশ কিছু ট্রেন চলাচল রবিবার থেকে স্থগিত থাকছে।

​টাইফুনের কারণে তাইওয়ানেও ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। তাইওয়ান সরকার জানিয়েছে, আবহাওয়া খারাপ থাকায় দেশটির ৬৩টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। সপ্তাহান্তে দ্বীপটির উত্তরাঞ্চলে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা থাকলেও শনিবার পর্যন্ত কোনো বাধ্যতামূলক স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়নি।

​ঝড় মোকাবিলার পাশাপাশি রাজনৈতিক উত্তেজনাও দেখা দিয়েছে। চীন নির্দেশ দিয়েছে যে, টাইফুনের সময় তাইওয়ান প্রণালী অতিক্রমকারী জাহাজগুলোকে তাদের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। তবে চীনের এই নির্দেশকে "হাস্যকর" বলে প্রত্যাখ্যান করেছে তাইপেই। তারা জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় যাতায়াত নিয়ন্ত্রণের কোনো অধিকার বেইজিংয়ের নেই। চীন গণতান্ত্রিকভাবে শাসিত তাইওয়ানকে নিজের ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করে, যদিও তাইপেই ও ওয়াশিংটন ধারাবাহিকভাবে এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

সুত্র: রয়টার্স

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0