হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রবেশকারী জাহাজের নিয়ন্ত্রণ পেতে পারে ইরান: ওমানের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তির খসড়া প্রকাশ

০৬ আগস্ট ২০২৬ - ০৬:৪০
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রবেশকারী জাহাজের নিয়ন্ত্রণ পেতে পারে ইরান: ওমানের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তির খসড়া প্রকাশ
হরমুজ প্রণালী। ছবি:রয়টার্স

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দীর্ঘ পাঁচ মাসের যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে মধ্যস্থতাকারী দেশ ওমানের সঙ্গে তেহরানের একটি খসড়া চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্র ও আঞ্চলিক দুই কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, এই প্রস্তাবিত চুক্তি কার্যকর হলে পারস্য উপসাগরে প্রবেশকারী সব বাণিজ্যিক জাহাজের নিয়ন্ত্রণ পাবে ইরান। এটিকে মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক ভূ-রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি চলাচলের ক্ষেত্রে তেহরানের পক্ষে একটি বড় কূটনৈতিক ও কৌশলগত অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

​ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাগাই জানান, হরমুজ প্রণালী দিয়ে নতুন নৌ-রুট চালুর ভৌগোলিক স্থানাঙ্ক (কোঅর্ডিনেট) বিষয়ে দুই দেশ সমঝোতায় পৌঁছেছে এবং শিগগিরই একটি যৌথ ঘোষণা আসতে পারে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, কেবল দুই দেশের সমঝোতাই এই প্রণালীর পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট নয়।

​ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘরিবাবাদি দেশটির সরকারি সংবাদসংস্থা আইআরএনএ-কে জানান, প্রস্তাবিত খসড়া অনুযায়ী বাণিজ্যভিত্তিক জাহাজগুলো পারস্য উপসাগরে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় উভয় ক্ষেত্রেই ইরানি জলসীমা ব্যবহার করবে।

​অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রস্তাবটির বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করা হয়নি। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী চালুর চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে বলে ইঙ্গিত দিলেও ওয়াশিংটনের নীতি নির্ধারকরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, বিশ্বের অন্যতম প্রধান এই জ্বালানি পরিবহন পথ তেহরানের একক নিয়ন্ত্রণে ছেড়ে দেওয়া মার্কিন নীতিবিরুদ্ধ।

​সংবাদ মাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন এই নৌপথের খসড়ায় প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের ফি বা শুল্ক নিয়েও দরকষাকষি চলছে। ইরান পণ্যবাহী জাহাজের মূল্যের ৫ থেকে ৭ শতাংশ ফি দাবি করছে। বিপরীতে ওমান প্রায় ৩ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব দিচ্ছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র কোনো প্রকার ফি দিতে নারাজ।

​উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে এ পর্যন্ত ইরানে ৩,৪০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং মার্কিন পক্ষের ১৮ জন সামরিক সদস্য নিহত হয়েছেন। এই যুদ্ধ ও প্রণালী বন্ধ থাকার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে বড় প্রভাব পড়েছে। একই সময়ে ইরান হুমকি দিয়েছে, যদি মার্কিন সামরিক বাহিনী তেহরানের অবকাঠামোতে নতুন কোনো হামলা চালায়, তবে পুরো অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোতে তারা পাল্টা হামলা চালাবে।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0