ইরান যুদ্ধে আমেরিকার দীর্ঘপাল্লার মিসাইল মজুদ প্রায় শেষ, বাড়ছে উদ্বেগ: রয়টার্স

০৫ আগস্ট ২০২৬ - ১০:২১
2 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
ইরান যুদ্ধে আমেরিকার দীর্ঘপাল্লার মিসাইল মজুদ প্রায় শেষ, বাড়ছে উদ্বেগ: রয়টার্স
ছবি:রয়টার্স থেকে নেওয়া।

ইরানের বিরুদ্ধে পাঁচ মাস ধরে চলা যুদ্ধে নিজেদের অধিকাংশ দূরপাল্লার নির্ভুল লক্ষ্যভেদী (প্রিসিশন) মিসাইলের আন্তর্জাতিক মজুদ প্রায় নিঃশেষ করে ফেলেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্রের বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। এর ফলে ভবিষ্যতে অন্য কোনো বড় ধরনের ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত তৈরি হলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রস্তুত থাকার সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

​প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন সেনাবাহিনীর ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ভূ-পৃষ্ঠে নিক্ষেপযোগ্য প্রধান অস্ত্র, যেমন ‘আর্মি ট্যাকটিক্যাল মিসাইল সিস্টেম’ (এটিএসিএমএস) এবং নতুন প্রজন্মের ‘প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল’ (পিআরএসএম)-এর মজুদ প্রায় পুরোটাই শেষ হয়ে এসেছে। অতি মূল্যবান এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর প্রতিটির প্রস্তুত ব্যয় ১০ লাখ ডলারেরও বেশি। এগুলো নিরাপদ দূরত্ব থেকে নিখুঁতভাবে শত্রুর লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে অত্যন্ত কার্যকর। এর মধ্যে এটিএসিএমএস ক্ষেপণাস্ত্র ইউক্রেন যুদ্ধেও রাশিয়ার অভ্যন্তরে হামলার জন্য সরবরাহ করা হয়েছে, আর পিআরএসএম হলো এর চেয়েও উন্নত ও দীর্ঘপাল্লার প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র।

​অস্ত্রের ঘাটতি ও কৌশলগত উদ্বেগ

​সংবাদ সংস্থাটির সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘপাল্লার অস্ত্রের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর টমাহক ক্রুজ মিসাইলের প্রায় অর্ধেক মজুদও এই যুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছে। এছাড়া প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ও থাড (THAAD) ব্যালিস্টিক মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেমের মজুদেও বড় ধরনের টান পড়েছে। থিঙ্ক ট্যাংক ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’ (সিএসআইএস)-এর তথ্যমতে, যুদ্ধের শুরু থেকে জুলাইয়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের প্রায় ৬৫ শতাংশ এবং থাড ক্ষেপণাস্ত্রের অন্তত ৩৮ শতাংশ ব্যবহার করা হয়ে গেছে।

​মার্কিন প্রশাসনের ভেতরে অস্ত্র সংকটের এই তথ্য সামরিক কৌশলবিদদের চিন্তায় ফেলে দিয়েছে। চীন বা রাশিয়ার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য কোনো সামরিক সংকটে ওয়াশিংটনের সামরিক প্রতিরোধ সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া দূরপাল্লার প্রিসিশন মিসাইল ঘাটতির কারণে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভবিষ্যতে ইরানে হামলা অব্যাহত রাখতে হলে চালকবিশিষ্ট যুদ্ধবিমান ব্যবহারের মতো ঝুঁকিপূর্ণ পথ বেছে নিতে হতে পারে।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0