তেলের চড়া লাভে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প: এক্সন ও শেভরনকে খুচরা দাম কমানোর তাগিদ
ইরান সংকটের কারণে জ্বালানি তেলের বিশ্ববাজার উত্তপ্ত থাকার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ দুই তেল কোম্পানি এক্সনমোবিল ও শেভরনের রেকর্ড মুনাফা নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জ্বালানি খাতের এসব বড় প্রতিষ্ঠান সাধারণ মানুষের কাছ থেকে 'অতিরিক্ত অর্থ উপার্জন করছে' বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি। একই সঙ্গে জ্বালানির খুচরা মূল্য কমিয়ে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তেলের চড়া দামের কারণে প্রতিষ্ঠান দুটি বিপুল অর্থ পকেটে পুরছে, যা তিনি মোটেও পছন্দ করছেন না। এই মুনাফার কিছু অংশ জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, “শেভরন ও এক্সনমোবিল—সবাই অতিরিক্ত টাকা তৈরি করছে। প্রচুর টাকা। বিষয়টিকে আমি ভালো চোখে দেখছি না।”
এর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক বার্তায় শেভরনের প্রধান নির্বাহী মাইক ওয়ার্থের সমালোচনা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ফক্স নিউজে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় জ্বালানি শিল্পের সুরক্ষায় তার প্রশাসনের অবদান স্বীকার না করায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ট্রাম্প দাবি করেন, তার প্রশাসনের দূরদর্শিতা ও দৃঢ় পদক্ষেপের কারণেই মার্কিন তেল শিল্প টিকে আছে। ভেনিজুয়েলা থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর শেভরন কীভাবে পুনরায় সেখানে বড় পরিসরে ব্যবসা শুরু করতে সক্ষম হয়েছে, তার উদাহরণও টানেন তিনি।
তবে মার্কিন তেলের কোম্পানিগুলোর সংগঠন আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউট (এপিআই) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ, চাহিদা এবং হরমুজ প্রণালীসহ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে অনিশ্চয়তার কারণেই তেলের দর বেড়েছে। এর জন্য কোনো একক প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করা ঠিক নয়।
চলতি বছর ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইউএস ও ইসরায়েলি আক্রমণের প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে অনেকটাই বেড়ে যায়। যার ফলে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোল ও ডিজেলের খুচরা মূল্য ৩০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে গ্যালনপ্রতি গড়ে প্রায় ৪.১০ ডলারে পৌঁছেছে। জ্বালানির এই ঊর্ধ্বমুখী দর আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির জন্য বড় রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
কোম্পানিগুলোর সাম্প্রতিক দ্বিতীয় প্রান্তিকের আয়ের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ইউক্রেন যুদ্ধের পর তৈরি হওয়া পরিস্থিতির মতোই এবারও চড়া বিশ্ববাজার ও রিফাইনিং মার্জিনের কারণে এক্সনমোবিল তাদের মুনাফা দ্বিগুণের বেশি বাড়িয়ে ১৪.৫ বিলিয়ন ডলারে নিয়েছে। অন্যদিকে শেভরন গত ছয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২.১ বিলিয়ন ডলার মুনাফা অর্জনের রেকর্ড গড়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দেশীয় জ্বালানি উৎপাদন বৃদ্ধির পক্ষে থাকলেও, সাধারণ গ্রাহকদের অসন্তোষ কমাতে খুচরা দাম কমানোর জন্য এখন তেল কোম্পানিগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











