ইরানে ট্রাম্পের সামরিক হামলা স্থগিতের ঘোষণা, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন

০৩ আগস্ট ২০২৬ - ০৯:৪২
2 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
ইরানে ট্রাম্পের সামরিক হামলা স্থগিতের ঘোষণা, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন

মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা সামরিক উত্তেজনা প্রশমনে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগের ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সিএনবিসির তথ্যানুযায়ী, সংঘাতের শঙ্কা হ্রাস পাওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৪ শতাংশেরও বেশি কমেছে।

​সোমবার এশিয়ার বাজারে বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের মূল্য ৪ দশমিক ৫ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৮০ দশমিক ৮৯ ডলারে নেমে আসে। একই সঙ্গে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪ দশমিক ৪ শতাংশ কমে দাঁড়ায় প্রতি ব্যারেল ৮৪ দশমিক ১০ ডলারে।

​ট্রাম্পের হামলা স্থগিত ও সম্ভাব্য চুক্তি

​এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক ঘোষণায় জানান, ইরানের ওপর তাদের পূর্বপরিকল্পিত সামরিক হামলা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্রের মধ্যস্থতা ও অনুরোধেই ওয়াশিংটন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

​সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, একটি সম্ভাব্য চুক্তির খসড়ায় দুই পক্ষ সম্মত হয়েছে। প্রস্তাবিত এই সমঝোতার আওতায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

​তেলের বাজার ও হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব

​বিশ্বের মোট জ্বালানি পরিবহনের একটি বড় অংশ নিয়ন্ত্রিত হয় হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে। আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাষ্কৃত অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ এ নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে ওই অঞ্চলে সামরিক অস্থিরতা দেখা দিলে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ওঠে।

​উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি তৈরি হওয়া উত্তেজনায় বিশ্বজুড়ে তেলের বাজার অস্থির হয়ে ওঠে। সম্প্রতি ওয়াশিংটন তেহরানে ফের হামলা চালাতে পারে এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছিল। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্থগিতাদেশের পর আন্তর্জাতিক বাজারে সাময়িক স্বস্তি ফিরে এসেছে।

​এদিকে ওয়াশিংটনের এ সংক্রান্ত বার্তা পাওয়ার পর সতর্ক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী সৈয়দ মজিদ ইবনে আল-রেজা জানান, মার্কিন প্রশাসন থেকে আসা প্রতিটি হুমকি ও সংকেত তারা চরম গুরুত্বের সঙ্গেই পর্যবেক্ষণ করছেন।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0