বিশ্বকাপের বাণিজ্য স্বত্ব বিক্রি বিতর্ক: চেয়ার টিকাইতে মরক্কোয় ইনফান্তিনোর জরুরি বৈঠক
বিশ্বকাপ ফুটবলের বাণিজ্যিক স্বত্ব একটি বেসরকারি সংস্থায় বিক্রি করার বিতর্কিত উদ্যোগ ভেস্তে যাওয়ার পর তীব্র চাপে পড়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো। ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থার অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিভিন্ন মহাদেশীয় কনফেডারেশনের ক্রমবর্ধমান বিরোধিতার মুখে নিজের পদ রক্ষা ও সংকট সমাধানের লক্ষ্যে বুধবার মরক্কোয় ফিফার শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে এক জরুরি বৈঠকে বসেছেন তিনি।
সংকট সমাধানের অংশ হিসেবে মরক্কোর স্যালে শহরে ফিফার আফ্রিকা আঞ্চলিক কার্যালয়ে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আগামী মার্চে মরক্কোয় ফিফা কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে চতুর্থ মেয়াদের জন্য ইনফান্তিনোর পুনর্নির্বাচিত হওয়ার জোর সম্ভাবনা ছিল। তবে সাম্প্রতিক এই বিতর্কের ফলে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
গত সপ্তাহে ইনফান্তিনো ফিফার ২১১টি সদস্য দেশের কাছে বিশ্বকাপের ২০ শতাংশ বাণিজ্যিক স্বত্ব ৪.২ বিলিয়ন ডলারে একটি বেসরকারি বিনিয়োগকারী সংস্থার কাছে বিক্রির প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। উক্ত বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিবারের যোগসূত্র রয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে, যা ফুটবল মহলে তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়। ব্যাপক প্রতিবাদের মুখে গত শুক্রবার ইনফান্তিনো এই পরিকল্পনা থেকে পিছু হটলেও অসন্তোষ থামেনি।
ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা (UEFA) তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছে, ফুটবলের মূল চেতনা বিকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে এবং তারা ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। দ্য টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, উয়েফা ছাড়াও উত্তর ও মধ্য আমেরিকা ফুটবল কনফেডারেশন (CONCACAF) এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (AFC) ইনফান্তিনোকে পদত্যাগে বাধ্য করতে প্রয়োজনে নিজস্ব প্রতিযোগিতা শুরু করা কিংবা ফিফার কার্যক্রম অচল করে দেওয়ার হুশিয়ারি দিয়েছে।
ইনফান্তিনোর ওপর চাপ কেবল বাইরে থেকে নয়, ফিফার ভেতর থেকেও বাড়ছে। ফিফার মহাসচিব ম্যাথিয়াস গ্রাফস্ট্রোম কর্মীদের কাছে পাঠানো এক অভ্যন্তরীণ বার্তায় পুরো ঘটনাটিকে "দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত" বলে আখ্যা দেন এবং নিশ্চিত করেন যে প্রকল্পটি স্থায়ীভাবে বাতিল করা হয়েছে। অন্যদিকে ফিফার চিফ অপারেটিং অফিসার কেভিন লামুর অভিযোগ করেছেন, এই উদ্যোগের বিষয়ে কর্মীদের বিভ্রান্ত করা হয়েছিল। পদত্যাগের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়েছেন ইনফান্তিনোর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কার্লোস কর্ডেইরো। এমনকি ফিফার গ্লোবাল ফুটবল ডেভেলপমেন্ট প্রধান আর্সেন ওয়েঙ্গারও এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে পিছু হটাকে সঠিক বলে মন্তব্য করেছেন।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইনফান্তিনো মূলত আফ্রিকা ও ছোট সদস্য দেশগুলোর সমর্থনের ওপর নির্ভর করছেন। তিনি পরিকল্পনা উপস্থাপনের সময় সদস্য দেশগুলোকে ২০ থেকে ৪০ মিলিয়ন ডলার লভ্যাংশ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। মরক্কো, কাতার, কুয়েত, লেবানন, শ্রীলঙ্কা ও ইন্দোনেশিয়ার ফুটবল সংস্থাগুলো ইতিমধ্যেই তার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।
তবে বিরোধীদের অবস্থানও বেশ শক্ত। জর্ডান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রিন্স আলী বিন হুসেইন ফিফার বিরুদ্ধে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ তুলেছেন। আগামী নির্বাচনে এখনও ইনফান্তিনোর বিপরীতে শক্ত কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী আনুষ্ঠানিকভাবে নাম ঘোষণা না করলেও, আগামী সাত মাস তিনি কীভাবে এই কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ সামলে পদ টিকিয়ে রাখেন, সেটাই এখন ফুটবল বিশ্বের মূল দেখার বিষয়।
সুত্র: রয়টার্স
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











