উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নিয়োগের প্রশ্নফাঁসে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর

১৪ অক্টোবর ২০২৬ - ১৯:৪৩
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নিয়োগের প্রশ্নফাঁসে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত

সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে নজিরবিহীন ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হবে বলে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। এ ঘটনার তদন্তে যদি মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সংশ্লিষ্টতাও পাওয়া যায়, তবে তাকেও কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।

​বুধবার (১৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে আয়োজিত ‘ইয়্যুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড’ বিষয়ক এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেওয়ার সময় প্রতিমন্ত্রী এসব কথা জানান।

​ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আমিনুল হক জানান, পূর্বঘোষিত সময় অনুযায়ী গত ১০ অক্টোবর বেলা ১১টায় এই নিয়োগ পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে পরীক্ষার ঠিক এক ঘণ্টা আগে সকাল ১০টা ৩ মিনিটে প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি তার নজরে আসে। তথ্যটি পাওয়ার পরপরই তিনি সংশ্লিষ্টদের জরুরি নির্দেশ দেন কেন্দ্রগুলোর মূল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে ফাঁস হওয়া প্রশ্ন মিলিয়ে দেখার জন্য। মাত্র পাঁচ মিনিটের মাথায় ফাঁসের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া মাত্রই পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দেশের দূর-দূরান্ত থেকে আশা নিয়ে আসা পরীক্ষার্থীদের যে ভোগান্তি ও কষ্ট হয়েছে, সে জন্য গভীর আন্তরিকতার সঙ্গে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।

​১৬ অক্টোবর নতুন পরীক্ষার তারিখ

​প্রতিমন্ত্রী জানান, স্থগিত হওয়া পরীক্ষাটি আগামী ১৬ অক্টোবর (শুক্রবার) বিকেল ৩টায় একযোগে অনুষ্ঠিত হবে। আগামীকালের এই পরীক্ষা যাতে শতভাগ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশে হতে পারে, সে বিষয়টি তিনি নিজে মন্ত্রণালয় থেকে সরাসরি তদারকি করবেন।

​তদন্ত কমিটির মেয়াদ বৃদ্ধি ও সার্বিক অগ্রগতি

​ঘটনার সুনির্দিষ্ট তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হলেও প্রকৃত অপরাধীদের সনাক্ত করতে কমিটির আবেদনের প্রেক্ষিতে সময় বাড়ানো হয়েছে। তিন কার্যদিবসের সময় বাড়িয়ে তা আগামী রোববার পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

​তিনি আরও জানান, প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে অতীতের কোনো সুসংগঠিত চক্র যুক্ত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) ও প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই) মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে। একইসঙ্গে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর বিশেষ ফরেনসিক টিম ঘটনাস্থল ও সংশ্লিষ্ট স্থান থেকে ডিজিটাল আলামত সংগ্রহ করে তা বিশ্লেষণ করছে।

​কাউকে ছাড় নয়, বজায় রাখা হচ্ছে নিরপেক্ষতা

​নিয়োগ কমিটি কিংবা বাইরে প্রশ্ন ছাপানো ও বিতরণের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা দায় এড়াতে পারেন কি না—এমন প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী সরাসরি বলেন, দায় এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। তবে তদন্ত প্রতিবেদন আসার আগেই কাউকে এককভাবে অভিযুক্ত করা সমীচীন হবে না। অতিরিক্ত সচিব মাহবুবের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটির পুরো তদারকি করছেন মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। অপরাধীর পরিচয় যাই হোক না কেন, চূড়ান্ত প্রতিবেদনে দোষ প্রমাণিত হলেই নেওয়া হবে আইনি ও প্রশাসনিক কঠোর ব্যবস্থা।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0