এক সুটকেস নিয়ে বাড়ি ছাড়লেন সেলিনা জেটলি, স্বামীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ
দাম্পত্য জীবনের নানা টানাপোড়েন, সন্তানদের থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার বেদনা এবং আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখি হয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী সেলিনা জেটলি। স্বামী পিটার হাগের সঙ্গে সম্পর্কে অবনতি এবং চলমান বিচ্ছেদ প্রক্রিয়া নিয়ে এর আগেও মুখ খুলেছিলেন তিনি। এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু ছবি ও দীর্ঘ বার্তা শেয়ার করে জীবনের এই কঠিন সময়ের কথা প্রকাশ্যে আনলেন এই অভিনেত্রী।
ইনস্টাগ্রামে দেওয়া ওই পোস্টে সেলিনা জানান, গত বছরের ১২ অক্টোবর শুধু একটি সুটকেস হাতে মুম্বাইয়ে ফিরে আসেন তিনি। সেই সুটকেসে ছিল জরুরি কিছু কাগজপত্র, তার প্রয়াত মায়ের শাড়ি এবং চরম মানসিক অস্থিরতা। তিনি উল্লেখ করেন, জীবনের অন্যতম কঠিন সিদ্ধান্তটি তাকে জোর করেই নিতে হয়েছিল। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসের শুরুর দিকে বিবাহবার্ষিকীর উপহার আসার কথা ভেবে পোস্ট অফিসে গিয়ে তিনি অবাক হন। উপহারের পরিবর্তে সেখানে তার জন্য অপেক্ষা করছিল বিবাহবিচ্ছেদের নোটিশ।
অভিনেত্রীর দাবি, আদালতের প্রথম শুনানিতে বিচারক দুই পক্ষকে নভেম্বর পর্যন্ত পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে বিচ্ছেদের পথ খুঁজে নেওয়ার সুযোগ দিয়েছিলেন। সেই সময় তিনি তার স্বামীকে অনুরোধ করেছিলেন, সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে বিষয়টি যেন শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করা হয়। স্বামীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিজ্ঞতা আদালতে প্রকাশ না করার বিষয়ে সমঝোতার কথা বললেও কোনো ইতিবাচক সাড়া পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। এর পরই পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয়।
সেলিনার অভিযোগ, সন্তানদের কাছে তাকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে এবং যৌথ অভিভাবকত্বের অধিকার থেকে তাকে বঞ্চিত করার অপচেষ্টা চলছে। অস্ট্রিয়ার প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় তিনি রাতের আঁধারে বাড়ি ছাড়েন এবং পরবর্তীতে হোটেল থেকে ফোন ও জুম কলের মাধ্যমে সন্তানদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালান। কিন্তু আদালতের কাছে সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন জানানোর পর থেকেই সন্তানদের সঙ্গে তার সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলে দাবি করেন তিনি।
মাতৃত্ব ও সন্তানদের প্রতি তার দায়িত্ববোধের পক্ষে লারা দত্তসহ বেশ কয়েকজন পরিচিত মুখ, প্রতিবেশী, চিকিৎসক এবং স্কুল অভিভাবক গোষ্ঠীর সদস্যদের কথা উল্লেখ করেছেন সেলিনা। উল্লেখ্য, ২০১০ সালে হায়দরাবাদে পিটার হাগের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন সেলিনা জেটলি। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের নভেম্বরে মুম্বাইয়ে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা দায়ের করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ন্যায়বিচারের আশায় তিনি এখনও আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











