মিরপুরে টানা তৃতীয় দিন শ্রমিক সংঘর্ষ: বন্ধ যান চলাচল ও মেট্রো স্টেশন

০৩ নভেম্বর ২০২৬ - ১৩:২৫
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
মিরপুরে টানা তৃতীয় দিন শ্রমিক সংঘর্ষ: বন্ধ যান চলাচল ও মেট্রো স্টেশন
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুরে ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনের তৃতীয় দিনেও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬) সকাল সোয়া ১০টার দিকে মিরপুর-১১ নম্বর এলাকায় এই উত্তেজনা ও সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। দফায় দফায় চলা এই সংঘর্ষের কারণে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

​সংঘর্ষ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। এরপরই উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় শ্রমিকরা অলিগলি থেকে বেরিয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশও লাঠিচার্জের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালায়। এই সহিংসতার জেরে মিরপুর-১১ নম্বর এলাকার মূল সড়কে সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনা করে মিরপুর-১১ মেট্রো স্টেশনটি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

​এর আগে সকাল থেকেই মিরপুর-১০ ও ১১ নম্বর এলাকার বিভিন্ন কারখানার নারী ও পুরুষ শ্রমিকরা স্ব স্ব কারখানার সামনে অবস্থান নেওয়া শুরু করেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী ইউসুফ আহমেদ জানান, সকাল থেকেই শ্রমিকদের বিভিন্ন গলির রাস্তায় জোটবদ্ধ হয়ে অবস্থান করতে দেখা গেছে, যা দেখে মনে হচ্ছিল তারা যেকোনো সময় সড়কে নেমে আসতে পারেন।

​পুলিশের কঠোর অবস্থান ও আইনি পদক্ষেপ

এদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে। মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান জানান, বর্তমানে মিরপুর-১০ এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং পুলিশ সতর্ক অবস্থানে আছে। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির যেকোনো অপচেষ্টা কঠোর হাতে দমন করা হবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

​উল্লেখ্য, ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরে রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন পোশাকশ্রমিকেরা। গত রবিবার এই আন্দোলন সহিংস রূপ ধারণ করে, যে সময় পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে এবং দুই পক্ষের সংঘর্ষে এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এরপর গতকাল সোমবারও শ্রমিকেরা সড়কে নামার চেষ্টা চালালেও পুলিশের কঠোর অবস্থানের কারণে তারা সফল হতে পারেননি। পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, গত সোমবারের ঘটনায় প্রায় ছয়জন বিশৃঙ্খলাকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া গত দুই দিনের সংঘর্ষের ঘটনায় মোট ১১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যেখানে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষকে আসামি করা হয়েছে।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0