পাকিস্তানের আকাশসীমায় তাইওয়ানের বিমান চলাচল ও নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বিতর্ক

০৮ নভেম্বর ২০২৬ - ১৫:২৩
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
পাকিস্তানের আকাশসীমায় তাইওয়ানের বিমান চলাচল ও নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বিতর্ক
ছবি সংগৃহীত

চীনের ‘এক চীন নীতি’ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে পাকিস্তানের আকাশসীমায় তাইওয়ানের বাণিজ্যিক বিমান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারির পর নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। গত মাসে তাইওয়ানের দুটি বিমান সংস্থাকে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারে বাধা দেওয়ার ঘটনায় বেইজিংয়ের প্রভাব এবং ইসলামাবাদের নীতিগত অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে আন্তর্জাতিক মহলে।

​নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছিল তাইওয়ানের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা চায়না এয়ারলাইনস এবং বেসরকারি সংস্থা ইভিএ এয়ার। এ বিষয়ে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ জানান, বেসামরিক বিমান চলাচল বিভাগ ‘এক চীন নীতি’ অনুসরণ করে এবং কেবল মূল ভূখণ্ডের চীনকেই অনুমতি দেওয়া হয়।

​তবে এর কিছুদিন পরই আকস্মিকভাবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয় পাকিস্তান। দুই বিমান সংস্থাকেই আগামী ২০২৭ সালের ২৭ মার্চ পর্যন্ত দেশটির আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। যদিও ইসলামাবাদ জানিয়েছে এটি একটি সাময়িক ব্যবস্থা এবং নির্ধারিত সময়ের পর কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

​দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত চীন এবং বেইজিংয়ের তাইওয়ান বিষয়ক অবস্থানকে বরাবরই সমর্থন করে আসছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তান তাইওয়ানকে চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করে এবং তাইপের সঙ্গে দেশটির কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। বর্তমানে তাইওয়ানে শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীসহ ৯০০ জনের কিছু বেশি পাকিস্তানি নাগরিক বসবাস করছেন। দুই পক্ষের মধ্যে কোনো প্রতিনিধি কার্যালয় কিংবা সরাসরি বিমান যোগাযোগ নেই।

​বিশ্লেষকদের মতে, ‘এক চীন নীতি’ অনুসরণ করার অর্থ তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতা করা এবং বেইজিংয়ের সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দেওয়া। তবে এর অর্থ এই নয় যে তাইওয়ানের বাণিজ্যিক বিমানগুলোকে অন্য দেশের আকাশসীমা ব্যবহারে বাধা দিতে হবে। এমনকি খোদ চীনও তাইওয়ানের বাণিজ্যিক বিমান চলাচলের ওপর এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে না।

​নিষেধাজ্ঞার পেছনে চীনের ভূমিকা নিয়ে বিশ্লেষকরা দুটি সম্ভাব্য কারণ উল্লেখ করেছেন। প্রথমত, বেইজিং নিজেই পাকিস্তানকে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপের অনুরোধ করে থাকতে পারে। দ্বিতীয়ত, চীনের প্রতি নিজেদের আনুগত্য প্রকাশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টার মাঝে বেইজিংকে আশ্বস্ত করতে পাকিস্তান নিজ থেকেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারে। বিশেষ করে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর (সিপিইসি) নিয়ে চলমান নিরাপত্তা ও কৌশলগত চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে একে চীনের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শনের রাজনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন অনেকে।

​মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপগামী তাইওয়ানের বিমানগুলোর জন্য পাকিস্তানের আকাশসীমা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৭ সালের মার্চের পর নিষেধাজ্ঞা স্থায়ী হলে বিমানগুলোর পরিচালন ব্যয় ও সময় বেড়ে যেতে পারে। তবে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো, পাকিস্তানের এই পদক্ষেপটি ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে, যার ফলে চীন তার মিত্র দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করে তাইওয়ানের বাণিজ্যিক বিমান চলাচলে আরও প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারে।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0