মিঠুন চক্রবর্তীর জীবনসংগ্রাম: একবেলা খাবারের বিনিময়ে বলিউড জয়

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ২১:৪৭
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
মিঠুন চক্রবর্তীর জীবনসংগ্রাম: একবেলা খাবারের বিনিময়ে বলিউড জয়
ছবি সংগৃহীত

বলিউড চলচ্চিত্রে চার দশকেরও বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ অসংখ্য সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। তবে সাফল্যের এই শীর্ষস্থানে পৌঁছানোর পেছনের পথটি ছিল চরম অনিশ্চয়তা ও কঠিন লড়াইয়ে ভরা। অভিনয়জীবনের শুরুর দিনগুলোতে শুধুমাত্র একবেলা খাবারের বিনিময়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নাচতে হতো তাকে, এমনকি রাতের পর রাত কাটাতে হয়েছে ফুটপাতে।

​সম্প্রতি কোরিওগ্রাফার ও চিত্রপরিচালক ফারাহ খানের ইউটিউব ভ্লগে অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে নিজের অতীত জীবনসংগ্রামের নানা অজানা অধ্যায় শেয়ার করেন এই প্রবীণ অভিনেতা। হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

​অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণ করে ফারাহ খান জানান, তার মামা কে কে শুক্লা চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য লিখতেন, যার মাধ্যমে মিঠুন চক্রবর্তীর পরিবারের সঙ্গে তাদের পরিচয় গড়ে ওঠে। ফারাহর ভাষ্য অনুযায়ী, ভালো নাচের দক্ষতার কারণে মিঠুনকে বিভিন্ন পার্টিতে ডেকে নেওয়া হতো। বিনিময়ে কোনো টাকা না নিয়ে কেবল রাতের খাবারের সুযোগটুকু পেতেন তিনি। জুনিয়র আর্টিস্ট থেকে আজকের এই অবস্থানে পৌঁছানোর যাত্রাটি অতিসাধারণ কোনো বিষয় ছিল না।

​নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে মিঠুন চক্রবর্তী জানান, তার সেই দিনগুলোর সংগ্রাম ছিল সাধারণ ধারণারও বাইরে। পার্ক কিংবা ফুটপাতে রাত কাটানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘ পথ হাঁটতে হাঁটতে যখন চরম ক্লান্ত হয়ে পড়তেন, তখন বাধ্য হয়ে ফুটপাতেই শুয়ে পড়তেন। ঘুম ভাঙার পর নিজেকে ফুটপাত বা বাগানে আবিষ্কার করার ঘটনাও ঘটেছে বহুবার।

​১৯৭৬ সালে মৃণাল সেনের ‘মৃগয়া’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে অভিনয়ে পা রাখেন গৌরাঙ্গ চক্রবর্তী, যিনি পরবর্তীতে মিঠুন চক্রবর্তী নামে পরিচিতি লাভ করেন। প্রথম সিনেমাতেই তিনি সেরা অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। এরপর ‘সুরক্ষা’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তার বাণিজ্যিক সাফল্য শুরু হয়। আশির দশকে ‘ডিস্কো ড্যান্সার’, ‘ড্যান্স ড্যান্স’, ‘পেয়ার ঝুকতা নেহি’, ‘কসম পয়দা করনে ওয়ালে কি’ এবং ‘কমান্ডো’র মতো কালজয়ী সিনেমার মাধ্যমে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছান তিনি।

​জুনিয়ার আর্টিস্ট হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করে ৩৫০টিরও বেশি হিন্দি, বাংলা ও আঞ্চলিক ভাষার চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন মিঠুন। অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনা ও ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন তিনি। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও চারটি ফিল্মফেয়ার পুরস্কারের পাশাপাশি ২০২৪ সালে ভারত সরকারের সম্মানজনক ‘পদ্মভূষণ’ এবং ভারতীয় চলচ্চিত্রের সর্বোচ্চ সম্মান ‘দাদাসাহেব ফালকে’ পুরস্কারে ভূষিত হন এই প্রবীণ তারকা।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0