যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত কমার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাত কমার লক্ষণ দেখা দেওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে উল্লেখযোগ্য পতন ঘটেছে। কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় সংকটের সমাধানের আশা এবং হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনায় সোমবার বিশ্বজুড়ে তেলের দর নিম্নমুখী হতে দেখা যায়। রয়টার্সের সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
বাজারের লেনদেন শুরুর প্রভাবেই ব্রেন্ট ক্রুডের দর ব্যারেলপ্রতি ৩ দশমিক ৯৬ ডলার বা ৪ দশমিক ১ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৯২ দশমিক ৮২ ডলারে। এমনকি একপর্যায়ে এই মানদণ্ডের দাম ৯০ ডলারের নিচেও নেমে এসেছিল। অন্যদিকে, আমেরিকার ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪ দশমিক ২ ডলার বা ৪ দশমিক ৫ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৮৫ দশমিক ২৯ ডলারে নেমে আসে।
টানা দুই সপ্তাহ ধরে উভয় পক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলার পর সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইরান নতুন কোনো সামরিক অভিযান চালায়নি। এতে করে দুই দেশের মধ্যকার সীমান্ত ও কৌশলগত উত্তেজনা হ্রাস পেতে পারে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। একই সঙ্গে অতি গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানিবাহী ট্যাংকার চলাচল ক্রমান্বয়ে স্বাভাবিক ধারায় ফিরবে বলেও আশাবাদ তৈরি হয়েছে।
জাতিসংঘে নিয়োজিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি মাইক ওয়াল্টজ জানিয়েছেন, কূটনৈতিক সংলাপের জন্য সুযোগ ও সময় তৈরির উদ্দেশ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ভূখণ্ডে হামলা আপাতত স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের ধারণা, সামরিক সংঘাত তাৎক্ষণিকভাবে না বাড়ায় আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যকার আতঙ্ক কিছুটা প্রশমিত হয়েছে। তবে হরমুজ প্রণালিতে এখনও জাহাজ চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। সামুদ্রিক তথ্য বিশ্লেষণকারী সংস্থা ক্লেপলারের হিসেব মতে, সপ্তাহান্তের সময়ে দৈনিক ১০টিরও কম বাণিজ্যিক জাহাজ ওই প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করতে পেরেছে। এছাড়া লোহিত সাগরে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক হামলা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ঝুঁকি এখনো পুরোপুরি কাটেনি।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











