ইরানে ৩ দিনের তীব্র বিমান হামলার পরিকল্পনা পেন্টাগনের, তবে নির্বাচনের আগে নয়: ট্রাম্প

০৯ অক্টোবর ২০২৬ - ১৬:৩৯
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
ইরানে ৩ দিনের তীব্র বিমান হামলার পরিকল্পনা পেন্টাগনের, তবে নির্বাচনের আগে নয়: ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের বিভিন্ন কৌশলগত ও সামরিক স্থাপনায় টানা তিন দিনজুড়ে প্রচণ্ড বিমান হামলার একটি বিকল্প সামরিক পরিকল্পনা তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। তবে দেশটিতে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পূর্বে তেহরানে কোনো সামরিক হামলা চালানো হবে না বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস ও অ্যাক্সিওসের প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।

​নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশেই ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভাণ্ডার, জ্বালানি অবকাঠামো এবং আইআরজিসির কার্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার কৌশলগত নকশা তৈরি করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। সম্প্রতি ক্যাম্প ডেভিডে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা বৈঠকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এই পরিকল্পনাগুলো পর্যালোচনা করেন। এতে স্বল্পমেয়াদে তীব্র অভিযান পরিচালনার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে যুদ্ধ শুরুর দিকে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) যে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্রগুলো পুনর্গঠন করেছে, সেগুলোকে প্রধান লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

​অন্যদিকে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডকে (সেন্টকম) ইরানের বিরুদ্ধে বড় পরিসরে সামরিক অভিযান পুনরারম্ভের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছে পেন্টাগন। যদিও এই নির্দেশে হামলার কোনো নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করা হয়নি এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাননি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে তিনটির মতো মার্কিন বিমানবাহী রণতরি মোতায়েন হতে পারে, যা ২০০৩ সালের পর এই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির বৃহত্তম ঘটনা।

​এর আগে ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট জানান, আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে কোনো হামলা চালানো হবে না এবং ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা চলছে। তবে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর দাবি, মার্কিন কর্মকর্তারা ইসরায়েলকে আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরানে বড় হামলার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন—যা ট্রাম্পের বক্তব্যের সঙ্গে কিছুটা অসঙ্গতিপূর্ণ।

​ইতোপূর্বে নেব্রাস্কায় রাজনৈতিক সমাবেশে ক্যালিফোর্নিয়ার শহরগুলোতে সম্ভাব্য ইরানি হামলা নিয়ে দেওয়া বক্তব্যের ব্যাখ্যায় ট্রাম্প জানান, তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার অর্থনৈতিক খেসারত হিসেবে সাময়িক তেলের দাম বৃদ্ধিকে তিনি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংসের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযান শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হয়। এপ্রিলে যুদ্ধবিরতির পর কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় পরিচালিত শান্তি আলোচনা বর্তমানে থমকে রয়েছে।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0