ইন্দোনেশিয়ায় ২৪৩ আরোহী নিয়ে জাহাজ ডুবি: ১২৯ জন নিখোঁজ, চালানো হচ্ছে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান

১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ০৯:১২
2 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
ইন্দোনেশিয়ায় ২৪৩ আরোহী নিয়ে জাহাজ ডুবি: ১২৯ জন নিখোঁজ, চালানো হচ্ছে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান
ছবি সংগৃহীত

ইন্দোনেশিয়ার জাভা সাগরে ২৪৩ জন আরোহী নিয়ে একটি যাত্রীবাহী জাহাজ উল্টে যাওয়ার পর অন্তত ১২৯ জন যাত্রী এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত ছয়জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে সোমবার সকাল থেকে ৬০০ জনেরও বেশি উদ্ধারকর্মী নিয়ে বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে।

​প্রতিকূল আবহাওয়ায় পথিমধ্যে দুর্ঘটনা

ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় উদ্ধারকারী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, 'ভার্গো ট্রান্সপোর্ট ৮' নামের যাত্রীবাহী জাহাজটি পূর্ব জাভার সুরাবায়া বন্দর থেকে দক্ষিণ কালিমান্তানের বাঞ্জারমাসিনের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল। রোববার ভোরের দিকে প্রতিকূল আবহাওয়ার কবলে পড়ে জাহাজটি দুর্ঘটনার শিকার হয়। উদ্ধারকর্মীরা এখন পর্যন্ত ১০৮ জনকে অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন।

​উদ্ধার তৎপরতা জোরদার

বাঞ্জারমাসিন উদ্ধার সংস্থার প্রধান আই পুতু সুদায়ানা জানিয়েছেন, সোমবার প্রথম প্রহর থেকেই পূর্ণ মাত্রায় তল্লাশি অভিযান পুনরায় শুরু করা হয়েছে। এতে ৬২২ জন উদ্ধারকারী কর্মী এবং প্রায় ১২টি উদ্ধারকারী জাহাজ সরাসরি নিয়োজিত রয়েছে। তিনি আরও জানান, সোমবার সকাল পর্যন্ত নতুন করে কোনো লাশ পাওয়া যায়নি, ফলে মৃতের সংখ্যা ছয়জনেই রয়েছে।

​উদ্ধারকারী সংস্থার ধারণ করা একটি ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, উত্তাল সাগরের ঢেউয়ের মধ্যে লাল ও কালো রঙের বিশালাকার জাহাজটি উল্টে আংশিক নিমজ্জিত অবস্থায় ভেসে আছে। জাহাজটির তলা ভাগ পানির ওপরে দৃশ্যমান এবং কাছেই দুটি ছোট নৌকায় উদ্ধারকারীরা তল্লাশি চালাচ্ছেন।

​দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান

জাতীয় উদ্ধারকারী সংস্থার কর্মকর্তা এডি প্রাকোসো জানিয়েছেন, সাগরের শক্তিশালী ও উত্তাল ঢেউ জাহাজের ডান পাশে আঘাত হানলে সেটি একদিকে মারাত্মকভাবে হেলে পড়ে এবং একপর্যায়ে উল্টে যায়। দেশের পরিবহন মন্ত্রী দুদি পুরওয়াগান্ধি জানান, আকাশে টহলরত একটি হেলিকপ্টার প্রথম জাহাজটির উল্টে যাওয়ার বিষয়টি দেখতে পায়। দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে।

​দ্বীপরাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়ায় ১৭ হাজারের বেশি দ্বীপের মধ্যে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ফেরি ও নৌযান। বিমান ভ্রমণের তুলনায় জলপথ অনেক সাশ্রয়ী হওয়ায় দেশটির সাধারণ মানুষ নিয়মিত এটি ব্যবহার করেন। তবে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সেখানে প্রায়শই সামুদ্রিক দুর্ঘটনা ঘটতে দেখা যায়।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0