সৌদি পাইপলাইন অচল ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনায় ১০০ ডলার পার তেলের দাম, ওমানে বৈঠক স্থগিত
মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের বাজারে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে অপরিশোধিত তেল রপ্তানির বিকল্প মাধ্যম সৌদি আরবের ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ পাইপলাইনটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে বিশ্বব্যাপী মোট তেল সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশ ঝুঁকি মুখে পড়েছে।
একই সময়ে, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব আল-মানদেব প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ শক্ত করার উদ্দেশ্যে পেরিম (Perim) দ্বীপে অবস্থান নিয়েছে। বিশ্বসংবাদের তথ্যানুযায়ী, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বৈশ্বিক জ্বালানি পণ্যের প্রায় ৪ থেকে ৫ শতাংশ এই নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়ে আসছিল।
মূল্যবৃদ্ধি ও বাজার বিশ্লেষকদের প্রতিক্রিয়া
সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় চলতি সপ্তাহে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার অতিক্রম করেছে। গত জুলাই মাসের পর এই প্রথম তেলের দাম এই সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাল।
উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আইজি (IG) মার্কেট অ্যানালিস্ট টনি সিকামোর সতর্ক করে জানান, চলতি সপ্তাহে ওমানে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আলোচনা যদি ফলপ্রসূ না হয় কিংবা ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন দ্রুত চালু করা সম্ভব না হয়, তবে তেলের দাম আবার গত মার্চের সর্বোচ্চ রেকর্ড ১১৯.৪৮ ডলারের দিকে ধাবিত হতে পারে।
ওমানে নির্ধারিত আলোচনা স্থগিত
এদিকে, ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় জানান, হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচল পরিস্থিতি নিয়ে সোমবার ওমানে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশসমূহ এবং ইরানের মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বৈঠকটি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ছয় মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মাধ্যমে সূচিত এই যুদ্ধে গত জুনে একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি কয়েক সপ্তাহের জন্য টিকে থাকলেও তা ভেঙে পড়ে। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত আর কোনো আনুষ্ঠানিক শান্তি বৈঠক বা মধ্যস্থতা সফল হয়নি।
সুত্র: রয়টার্স
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











