নয়াদিল্লি ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ ও একতরফা নিষেধাজ্ঞা বন্ধের আহ্বান ব্রিকসের

১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ১০:৪৬
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
নয়াদিল্লি ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ ও একতরফা নিষেধাজ্ঞা বন্ধের আহ্বান ব্রিকসের
ছবি সংগৃহীত

ভারতে অনুষ্ঠিত ১৯তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের প্রথম দিন সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত ‘নয়াদিল্লি ঘোষণা’য় মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক সংঘাত বন্ধ এবং সব ধরনের একতরফা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জোরালো দাবি জানানো হয়েছে। নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে আয়োজক দেশ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভাপতিত্বে জোটের সদস্যদেশের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। জোটে নতুন যুক্ত হওয়া ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে ভিন্ন অবস্থানে থাকা সত্ত্বেও এই যৌথ ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ কূটনৈতিক গুরুত্ব বহন করছে।

​গাজায় যুদ্ধবিরতি ও ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের দাবি

সম্মেলনে গৃহীত যৌথ ঘোষণায় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ২৮০৩ নম্বর প্রস্তাব অনুসরণের তাগিদ দেওয়া হয়। এতে গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা এবং ফিলিস্তিনিদের কাছে অবাধে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানায় ব্রিকস। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের নিজস্ব ভূমি থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার যে কোনো অপচেষ্টা বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে। ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের সমাধান কেবল শান্তিপূর্ণ উপায়ে ও ফিলিস্তিনি জনগণের আত্ম নিয়ন্ত্রণের অধিকার স্বীকৃতির মাধ্যমেই সম্ভব বলে উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া লেবাননের ভূখণ্ড থেকে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীকে অবিলম্বে সরে যাওয়ার জোরালো নির্দেশ দিয়েছে জোটটি।

​একতরফা নিষেধাজ্ঞা ও বিশ্ব বাণিজ্যে বাধা

নির্দিষ্ট কোনো রাষ্ট্রের নাম উল্লেখ না করে বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্যের প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে সব ধরনের একতরফা সামরিক আগ্রাসন ও নিষেধাজ্ঞার তীব্র নিন্দা জানায় ব্রিকস। সম্মেলনের ফাঁকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি রক্ষায় ব্রিকসের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। তিনি যেকোনো দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের বিরোধিতা করেন এবং মার্কিন অর্থনৈতিক সুরক্ষাবাদের সমালোচনা করে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থাকে (ডব্লিউটিও) কেন্দ্র করে উন্মুক্ত ও বহুমুখী বাণিজ্য ব্যবস্থা বজায় রাখার তাগিদ দেন।

​ইরান-আমিরাত বৈঠক ও মোদি-শি আলোচনা

সম্মেলনের পাশাপাশি কূটনৈতিক অঙ্গনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। উত্তেজনা নিরসনে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও আবুধাবির যুবরাজ শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়। অপরদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যকার বৈঠকে সীমান্ত বিরোধের একটি স্থায়ী ও গ্রহণযোগ্য সমাধানের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়। সীমান্ত এলাকায় শান্তি বজায় রাখা এবং আগের চুক্তিগুলো মেনে চলার ওপর জোর দেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী।

​আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে সংস্কারের দাবি

পশ্চিমা প্রভাবমুক্ত করতে বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় জরুরি সংস্কারের দাবি পুনরায় তুলে ধরেছেন ব্রিকস নেতারা। এ ছাড়া সদস্যদেশগুলোর নিজেদের মধ্যে নিজস্ব ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং বিমান চলাচলে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, বিশ্ব জনসংখ্যার ৪০ শতাংশ এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রায় এক-চতুর্থাংশ নিয়ন্ত্রণ করে ব্রিকস জোট।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0