বাব আল-মানদেব প্রণালীর কৌশলগত পিরিম দ্বীপে হুতি বিদ্রোহী, বাড়ছে জ্বালানি সংকট
মূল ঘটনা ও আন্তর্জাতিক প্রভাব
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যেই লোহিত সাগরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ বাব আল-মানদেব প্রণালীর কৌশলগত পিরিম দ্বীপে অবস্থান নিয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের চার কর্মকর্তা রয়টার্সকে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারের দুটি সূত্র জানায়, তাদের সামরিক বাহিনী পিরিম দ্বীপ থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে। একই সঙ্গে পিরিম দ্বীপের ঠিক বিপরীতে মূল ভূখণ্ডের উপকূলীয় শহর জুবাবও হুতিদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। যদি হুতিরা বাব আল-মানদেব প্রণালীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করে, তবে তা বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ইতোমধ্যেই অবরুদ্ধ থাকায়, দ্বিতীয় এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ বাধাগ্রস্ত হলে তেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক বৃদ্ধি পাবে।
সৌদি তেলের পাইপলাইনে ধোঁয়া ও বাজার প্রতিক্রিয়া
এদিকে রয়টার্স কর্তৃক যাচাইকৃত কৃত্রিম উপগ্রহের ছবিতে দেখা গেছে, সৌদি আরবের মদিনা অঞ্চলের দক্ষিণে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ 'ইস্ট-ওয়েস্ট' তেল পাইপলাইনের কাছাকাছি এলাকা থেকে কালো ধোঁয়া উঠছে। হামলার ঘটনার জেরে পাইপলাইনটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল বলে সৌদি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে।
এই পরিস্থিতির প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার অতিক্রমের পথে রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) জানিয়েছে, আগস্ট মাসে সৌদি তেলের সরবরাহ প্রতিদিন ২৩ লাখ ব্যারেল কমে ৬০ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে, যা গত তিন দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন।
পাল্টা হামলার পরিকল্পনা ও মার্কিন-সৌদি কূটনৈতিক যোগাযোগ
হুতিদের দ্রুত অগ্রযাত্রার পর ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী হারানো এলাকাগুলো পুনরুদ্ধার করতে বিমান ও অতিরিক্ত সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে। তাদের মূল লক্ষ্য উপকূলীয় শহর মোখা ও হানিশ দ্বীপের সংযোগ সড়কগুলো পুনর্দখল করা।
অন্যদিকে Axios-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে সরাসরি সামরিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে অন্তত দু'বার ফোনালাপ করেছেন। তবে ওয়াশিংটন সরাসরি সামরিক অভিযানে অংশ নিতে অপারগতা প্রকাশ করলেও গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের মাধ্যমে সৌদিকে সহায়তা করবে বলে জানিয়েছে।
হুতি সামরিক মুখপাত্র বার্তা দিয়েছেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত সৌদি জাহাজ ছাড়া অন্যান্য সব বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য এই নৌপথে চলাচল নিরাপদ থাকবে। তবে সৌদি আক্রমণ ও অবরোধ বহাল থাকলে তারাও সমান মাত্রায় পাল্টা পদক্ষেপ বজায় রাখবে বলে সতর্ক করেছেন।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











