নাইন-ইলেভেন হামলার ২৫ বছর: অশ্রু আর স্মৃতির আবহে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে স্বজনদের শ্রদ্ধা
আমেরিকায় ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের প্রাণঘাতী সন্ত্রাসী হামলার পঁচিশ বছর পূর্ণ হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) এক অত্যন্ত ভাবগম্ভীর পরিবেশে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে স্মরণ করা হয়েছে নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার, পেন্টাগন এবং পেন্সিলভেনিয়ার মাঠে অপহৃত বিমান হামলায় নিহত প্রায় তিন হাজার মানুষকে।
গ্রাউন্ড জিরোতে শোকের আবহ
নিউইয়র্কের লোয়ার ম্যানহাটনের 'গ্রাউন্ড জিরো'-তে আয়োজিত মূল স্মরণসভায় স্বজন হারানো পরিবারগুলোর সঙ্গে যোগ দেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং সাবেক চার মার্কিন প্রেসিডেন্ট। নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় সকাল ৮:৪৬ মিনিটে নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। ২৫ বছর আগে ঠিক এই মুহূর্তেই আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ১১ নম্বর ফ্লাইটটি ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের নর্থ টাওয়ারে আঘাত হেনেছিল।
নীরবতার পর নিহতের স্বজনরা একে একে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলায় প্রাণ হারানো ২,৯৭৭ জন এবং ১৯৯৩ সালে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে বোমা হামলায় নিহত ৬ জনের নাম পাঠ করেন। টানা প্রায় চার ঘণ্টা ধরে চলা এই নাম পাঠে বহু তরুণ-তরুণীও অংশ নেন, যাদের জন্মই হয়েছে ২০০১ সালের সেই ভয়াবহ ঘটনার পর।
উদ্ধারকাজ চলাকালীন বিষাক্ত ধোঁয়া ও ধুলাবালির প্রভাবে পরবর্তী সময়ে হাজার হাজার মানুষের যে মৃত্যু হয়েছে, তাদের স্মরণে এবার প্রথমবারের মতো সপ্তমবারের মতো নীরবতা পালন করা হয়।
হামলায় বেঁচে যাওয়া গ্রেগরি ক্যারাফেলো তার দীর্ঘদিনের বন্ধু জেমস মার্টেলোর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে অনুষ্ঠানে আসেন। মার্টেলো কাজ করতেন 'ক্যান্টর ফিটজেরাল্ড' নামের একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে, যেখান থেকে ওই দিন সাড়ে ৬ শতাধিক কর্মী মারা যান। ক্যারাফেলো বলেন, "সবাইকে অনুধাবন করতে হবে এটি বহু পরিবারের জন্য কতটা বিপর্যয়কর এক দিন ছিল। তারা কোনো যুদ্ধক্ষেত্রের যোদ্ধা ছিলেন না; আমাদের মতোই সাধারণ মানুষ ছিলেন যারা সকালে কাজ করতে বেরিয়েছিলেন।"
পেন্টাগনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তব্য
ভার্জিনিয়ার আরলিংটনে অবস্থিত পেন্টাগনে আয়োজিত অন্য এক অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ৭৭ নম্বর বিমানটি আঘাত হানা এই ভবনে সেদিন ১৮৪ জন নিহত হয়েছিলেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ৯/১১-র হামলায় প্রাণ হারানো এক গর্ভবতী নারী, অস্ট্রেলিয়াগামী চার সদস্যের পরিবার এবং ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ট্র্যাজিক গল্পগুলো স্মরণ করেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ উভয়েই তাদের বক্তব্যে চলমান ইরান যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, তেহরান যাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে সে লক্ষ্যেই কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র। বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, "আমরা আমাদের উদ্ধারকর্মী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে স্যালুট জানাই। একইসঙ্গে বিশ্বের এক নম্বর সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান যেন কখনো পারমাণবিক অস্ত্র না পায়, তা নিশ্চিত করতে দায়িত্ব পালনরত সেনাসদস্যদের আমরা শ্রদ্ধা জানাই।"
বহুপ্রজন্মজুড়ে বয়ে চলা দীর্ঘশ্বাস
২০০১ সালের সেই ঘটনার পর পুরো এক প্রজন্ম পার হয়ে গেছে। নিউইয়র্ক ফায়ার ডিপার্টমেন্টের (FDNY) হিসাব অনুযায়ী, ঘটনার দিন তাদের ৩৪৩ জন কর্মী নিহত হন। এরপর ওই স্থানের বিষাক্ত বাতাসের কারণে সৃষ্ট অসুস্থতায় এ পর্যন্ত আরও ৬০০-র বেশি অগ্নিনির্বাপক কর্মী মারা গেছেন, যার মধ্যে কেবল চলতি বছরেই ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
ফ্লাইট ১১-এর পাইলট ক্যাপ্টেন জন ওগোনোফস্কির মেয়ে ক্যারোলিন ওগোনোফস্কি (৩৯) বলেন, তার বাবার স্মৃতির উদ্দেশ্যে নতুন প্রজন্মের কাছে এই ইতিহাস ও বীরত্বের গল্প পৌঁছে দেওয়া তাদের নৈতিক দায়িত্ব।
সুত্র : রয়টার্স
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











