সৌদি আরবে হুথিদের হামলা জোরদার: বড় পরীক্ষার মুখে 'ইসলামিক ন্যাটো'

১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ০১:০৫
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
সৌদি আরবে হুথিদের হামলা জোরদার: বড় পরীক্ষার মুখে 'ইসলামিক ন্যাটো'
ছবি: এনডিটিভি থেকে সংগৃহীত।

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের সামরিক ও সামরিক-বেসামরিক গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা ত্বরান্বিত করেছে। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় অর্জিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি শেষ হওয়ার পর সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকার ও হুথিদের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় ও উদ্বেগজনক সংঘাত বলে বিবেচিত হচ্ছে।

​হামলার তীব্রতা ও সংঘাতের বিস্তার

লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য পথ বাব আল-মান্দেব প্রণালী এবং কৌশলগত মোখা বন্দর অভিমুখে হুথিদের আগ্রাসনের পর পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে। সানা বিমানবন্দরে একটি ইরানি বিমান অবতরণ প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র করে সংঘাতের সূত্রপাত হয়। এরপর হুথিরা সৌদির বিরুদ্ধে 'সামুদ্রিক অবরোধ' ঘোষণা করে দেশটির আবহা, খামিস মুশাইত, জিজান ও নাজরান শহরের ওপর দফায় দফায় ড্রোন ও ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে।

​সৌদি কতৃপক্ষের দেয়া তথ্যানুযায়ী, রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর কেন্দ্র ও সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে পরিচালিত এসব হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ৭৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। রিয়াদ এ হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে কঠোর সামরিক জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। অপরদিকে হুথিদের দাবি, ইয়েমেনের আল-জাউফ প্রদেশের একটি কারাগারে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলার জবাবে তারা এ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে।

​যুদ্ধক্ষেত্রের চিত্র ও মানবিক সংকট

বর্তমানে ইয়েমেনের তাইজ, আল-বায়দা, আল-ধালি ও আল-হুদায়দাহ অঞ্চলে ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ চলছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) পরিসংখ্যান মতে, সাম্প্রতিক সহিংসতায় প্রায় ১৯৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৮৮০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানা দখলের পর শুরু হওয়া এই দীর্ঘ গৃহযুদ্ধে এ পর্যন্ত আনুমানিক দেড় লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।

​পরীক্ষার মুখে 'ইসলামিক ন্যাটো'

সৌদি ভূখণ্ডে হুথি হামলা বৃদ্ধি পাওয়ার পর পাকিস্তান, তুরস্ক এবং সৌদি আরবের যৌথ নিরাপত্তা উদ্যোগ, যা 'ইসলামিক ন্যাটো' বা মেক্কা নিরাপত্তা চুক্তি নামে পরিচিত, তার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জোটটি সৌদির সুরক্ষায় সরাসরি যৌথ সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে কি না, তা নিয়ে কূটনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। তবে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জানিয়েছেন, পরিস্থিতি বিশ্লেষণে এই নিরাপত্তা জোটকে কার্যকর করার সুযোগ রয়েছে। লোহিত সাগরে সংঘাত অব্যাহত থাকলে তা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নৌপথের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।

সুত্র: এনডিটিভি

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0