হরমুজ প্রণালীতে চরম উত্তেজনা: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি জাহাজ হামলা, বাড়ছে তেলের দাম

১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ০০:৪৮
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
হরমুজ প্রণালীতে চরম উত্তেজনা: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি জাহাজ হামলা, বাড়ছে তেলের দাম
যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ ডুবে যাওয়ার সময় জ্বলছে। ছবি : রয়টার্স

হরমুজ প্রণালী ও মধ্যপ্রাচ্যের অত্যন্ত সংবেদনশীল জলসীমায় সামরিক উত্তেজনা আবারো চরম আকার ধারণ করেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকার ধ্বংসের দাবি করার পর, পাল্টা জবাবে দুটি মার্কিন জাহাজসহ অন্তত ১০টি জাহাজে হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। বিগত ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধের মধ্যে উভয় পক্ষের এটাই সবচেয়ে বড় ঘোষিত নৌ-আক্রমণ।

​সামুদ্রিক বাণিজ্যিক জাহাজে এই হামলার পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার অতিক্রম করেছে।

​সমুদ্রে ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি

​যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, গত দুই দিনে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টার জবাব হিসেবেই ইরানি ট্যাংকারগুলোতে আক্রমণ চালানো হয়। তবে এ ঘটনায় কোনো মার্কিন সৈন্য বা সদস্য আহত হননি।

​কলম্বিয়া সফরকালে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, “ইরান ধারাবাহিকভাবে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে আঘাত হানার চেষ্টা করছে। যতবারই তারা এই চেষ্টা করবে, ততবারই তারা নিজেদের তেল ট্যাংকার হারাবে।”

​অন্যদিকে, ইরানি হামলায় বেশ কিছু ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুবাই উপকূলের কাছে নোঙ্গর করে রাখা 'হারকিউলিস স্টার' নামের একটি তেলজাত পণ্যবাহী ট্যাংকারে ড্রোন হামলায় এক নাবিক নিহত ও একজন নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া ইরাকি জলসীমায় ২ মিলিয়ন ব্যারেল জ্বালানি তেল বহনকারী 'নিউ অ্যান্ড্রোস' নামের একটি ট্যাংকার ড্রোন আঘাতের পর অগ্নিকাণ্ডের শিকার হয়, তবে এর ২২ জন নাবিকই অক্ষত আছেন।

​জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা

​আইআরজিসি আরও জানিয়েছে, তারা পূর্ব জর্ডানের আল-আজরাক এলাকায় অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর একটি ঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। জর্ডান সামরিক কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ২০টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১৮টি মাঝপথেই ধ্বংস করে এবং বাকি দুটি জনশূন্য এলাকায় পড়ে। এতে কোনো হতাহত বা বড় ধরণের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে মার্কিন প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।

​তেল সরবরাহ ও আঞ্চলিক সংকট

​হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্ববাজারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহ পরিচালিত হতো। কিন্তু চলমান সংঘাতের ফলে জ্বালানি পরিবহন আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। রাইস্টাড এনার্জির তথ্য অনুযায়ী, এই জলপথ দিয়ে দৈনিক তেল পরিবহন কমে ২০ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে, যা সংঘাতের আগের সপ্তাহেও ছিল ৮০ থেকে ৯০ লাখ ব্যারেল। যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের গড় খুচরা দাম প্রতি গ্যালনে ৫.৯৪ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে।

​পরিস্থিতি সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের তাগিদ দিয়েছেন। এর পাশাপাশি ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক সৌদি আরব লক্ষ্য করে চালানো হামলা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বাড়তি অনিশ্চয়তা ও সংকট তৈরি করছে।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0