গান ও কবিতায় সেন্ট জোসেফে ছায়ানটের বর্ণিল শরৎ উৎসব উদযাপন

০৯ অক্টোবর ২০২৬ - ১৩:৪২
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
গান ও কবিতায় সেন্ট জোসেফে ছায়ানটের বর্ণিল শরৎ উৎসব উদযাপন
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীতে গান, কবিতা ও নৃত্যের মনোহরী পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শরতের চিরন্তন সৌন্দর্য উদ্‌যাপন করেছে ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে ঢাকার মোহাম্মদপুরে অবস্থিত সেন্ট জোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল প্রাঙ্গণে যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ এই 'শরতের অনুষ্ঠান'।

​সকাল সাড়ে ৭টায় শুভ সূচনা হওয়া এই আনন্দ আয়োজনে অংশ নেয় নালন্দা উচ্চ বিদ্যালয়, এক্সেল একাডেমি, সেন্ট জোসেফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং সেন্ট জোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের শিক্ষার্থীরা।

​রঙিন আবহে সুরের মূর্ছনা

উৎসবের প্রবেশপথে হরেক রঙের ঘুড়ি এবং মূল মঞ্চজুড়ে কাশফুলের স্নিগ্ধ সাজে ফুটিয়ে তোলা হয় শরতের আবহ। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'শরতে আজ কোন্ অতিথি' গানের সঙ্গে সম্মিলিত পরিবেশনা ও নৃত্যের মধ্য দিয়ে মূল পর্বের সূচনা ঘটে। সেখানে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও ছায়ানটের শিল্পীরা একযোগে অংশ নেন। পরবর্তীতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম ও অতুল প্রসাদ সেনের জনপ্রিয় গান, কবিতা ও ছড়া পরিবেশিত হয়।

​অনুষ্ঠানে নালন্দা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা 'আলোর অমল কমলখানি' ও 'শরৎ (আজি কি তোমার মধুর মুরতি)' গান দুটি পরিবেশন করে। একই সঙ্গে সুনির্মল বসুর বিখ্যাত কবিতা 'সবার আমি ছাত্র' বৃন্দ আবৃত্তির মাধ্যমে তুলে ধরে তারা। এ পর্বে একক কণ্ঠে গান পরিবেশন করেন মেহেরিন ফাতেমা ও সুদর্শনা অলকানন্দা কুণ্ডু।

​এক্সেল একাডেমির শিক্ষার্থীরা পরিবেশন করে সম্মিলিত গান 'দেখো-দেখো, দেখো, শুকতারা আঁখি'। সেন্ট জোসেফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিবেশনায় ছিল 'কোন্ খেপা শ্রাবণ ছুটে এল'। এ ছাড়া ছায়ানটের শিল্পী পার্থিব সাহা পরিবেশন করেন 'শিউলি ফুল শিউলি ফুল', অঙ্কিতা সরকার গান 'অমল ধবল পালে লেগেছে' এবং ইজমির মুস্তাফিজ তুলে ধরেন একক আবৃত্তি 'শরৎ (এসেছে শরৎ, হিমের পরশ)'। একই পর্বে কাজী নজরুল ইসলামের 'কোন্ শরতে পূর্ণিমা-চাঁদ' কবিতাটি বৃন্দ আবৃত্তিতে পরিবেশিত হয়।

​সেন্ট জোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের শিক্ষার্থীরা পরিবেশন করে 'আজ প্রথম ফুলের পাব প্রসাদখানি'। এ প্রতিষ্ঠানের হয়ে একক সংগীত পরিবেশন করেন সার্থক সাহা, বাঁধন কুণ্ডু ও দিব্যময় দেশ।

​প্রকৃতি রক্ষার বার্তা ও উৎসব সমাপনী

অনুষ্ঠানের শেষ ভাগে ছায়ানটের শিল্পীরা পরিবেশন করেন 'ওগো শেফালিবনের মনের কামনা'। যেখানে একক গান পরিবেশন করেন শতদ্রু সরকার ও প্রেমা দেওয়ানজী। পরিশেষে সবকটি প্রতিষ্ঠানের যৌথ অংশগ্রহণে 'আজ ধানের ক্ষেতে' সম্মেলক নৃত্যগীত এবং জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে সমাপনী ঘটে।

​আয়োজনের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে ছায়ানটের সভাপতি সারওয়ার আলী জানান, শিক্ষার্থীদের প্রকৃতির ঋতু বৈচিত্র্যের সঙ্গে নিবিড়ভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার তাগিদ থেকেই এ আয়োজন। তিনি বলেন, ষড়ঋতুর দেশে নীল আকাশ, মেঘের ভেলা, ফুটন্ত কাশবন ও শিউলি ফুলের সৌন্দর্যে শরতের যে নিজস্ব রূপ রয়েছে, তা শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে সবার কাছে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। শৈশব থেকেই শিশুদের প্রকৃতির সান্নিধ্যে এনে সচেতনতা সৃষ্টি করলে চলমান প্রকৃতিবিনাশী কর্মকাণ্ড অনেকটাই রোধ করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0