মেহেরপুর পল্লি বিদ্যুৎ সমিতির গাংনী অফিসের ডিজিএম এর বিরুদ্ধে গ্রাহকদের সাথে প্রতারণার অভিযোগ
গাংনী (মেহেরপুর) প্রতিনিধিঃ সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার উদ্দেশ্যেই বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে লোডশেডিং করা হচ্ছে, সরকারিভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন কম হচ্ছে জানালেন (এজিএম কম) মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গাংনী জোনাল অফিসের (ডিজিএম) শফিউদ্দিন আহমেদ। গ্রাহক সূত্রে জানা গেছে, জিডিএম শফিউদ্দিন আহমেদ যোগদান করার পর থেকে অনিয়মের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে গ্রাহকদের সাথে প্রতারণা করার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিদিন বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে ২৪ ঘন্টার মধ্যে মাত্র ৪ ঘন্টা বিদ্যুৎ দিচ্ছে।বাকী২০ ঘন্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে রেখেছেন। ফলে বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে, গ্রাম অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রায় বন্ধের পথে। বিদ্যুৎ না পেয়ে কৃষকদের সেচ ব্যবস্থা হুমকির মধ্যে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, বিদ্যুৎ বন্ধ রাখার বিষয়ে (ডিজিএম) শফিউদ্দিন আহমেদ বলেন সরকারী ভাবে আগের থেকে বাংলাদেশে জ্বালানীর অভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন কম হচ্ছে। যার কারণে লোডসেডিং হচ্ছে বলে আমাদের জানিয়েছেন। তারা আরও বলেন, আমরা শুনেছি বাংলাদেশে বিদ্যুতের কোন ঘাটতি নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে শত ভাগ বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করেছেন। সেখানে (ডিজিএম) শফিউদ্দিন আহমেদ যোগদান করার পর থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উন্নয়ন বাঁধাগ্রস্থ করার জন্য সাধারন গ্রাহকদের সাথে প্রতারণা শুরু করেছেন।
এব্যাপারে সাহারবাটি ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির নাজিমুদ্দিন জানান, সরকারিভাবে বিদ্যুতের কোন ঘাটতি নেই, তবে বিদ্যুৎ সরবরাহে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে এটা খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ধর্মচাকী গ্রাম বিএনপির সভাপতি আব্দুল গনি জানান, সরকারী ভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কোন সমস্যা নেই। তবে কিছু কর্মকর্তা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে ঝামেলা শুরু করেছে। অবিলম্বে এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, গাংনী জোনাল অফিসে এর আগে যেসকল কর্মকর্তা দ্বায়ীতে ছিলেন তখন বিদ্যুৎ সরবরাহ সঠিক ভাবে করেছে। এর আগে গাংনী জোনাল অফিসে যত মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বরাদ্দ ছিলো বর্তমানে সরকারী ভাবে তাই আছে শফিউদ্দিন আহমেদ সরকারের উন্নয়ন বাঁধাগ্রস্থ করার জন্য এমন শুরু করেছে।
এব্যাপারে গাংনী জোনাল অফিসের কর্মকর্তা (ডিজিএম) শফিউদ্দিন আহমেদ জানান, বাংলাদেশে জ্বালানির অভাবে সরকারী ভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন কম হচ্ছে যার কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ সঠিকভাবে করা সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে গাংনী উপজেলায় চাহিদা ১৪ মেগাবাইট বিদ্যুৎ। সেখানে অর্ধেক ৭ মেগাবাইট বিদ্যুৎ পাচ্ছি। যদি আমাকে সঠিক ভাবে বিদ্যুৎ বরাদ্দ দেয়। তাহলে সঠিক ভাবে সরবরাহ করা হবে। তিনদিন আগেও বিদ্যুৎ সরবরাহ সঠিক ছিল এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, তিনদিন আগেও আমরা এখানে ১৪ মেগাবাইট বিদ্যুৎ পেয়েছি। তিনদিন যাবৎ ৭ মেগাবাইট বিদ্যুৎ পাচ্ছি, যার ফলে বিদ্যুৎ বন্টন করতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা বিএনপি'র সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু জানান, সরকারিভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কোন ঘাটতি নেই। তবে কোন কর্মকর্তা যদি সরকারের উন্নয়ন বাধাগ্রস্থ করে তাহলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এব্যাপারে মেহেরপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাভেদ মাসুদ মিল্টন জানান, সরকারিভাবে কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কোন ঘাটতি নেই। আমার গাংনী উপজেলার সাধারণ মানুষ দুইদিন ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের বিষয়টি আমাকে অবগত করেছে। আমি খোঁজ খবর নিয়ে দেখবো কি কারনে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রেখেছে, বিনা কারণে যদি বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখে বা সরকারী উন্নয়ন বাঁধাগ্রস্থ করে তাহলে (ডিজিএম) এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এবিষয়ে মেহেরপুর -২ গাংনী আসনের সংসদ সদস্য নাজমুল হুদা বলেন, বাংলাদেশে বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নেই। আমি খোঁজ খবর নিয়ে দেখবো কি কারনে বিদ্যুৎ সরবরাহে লোডশেডিং হচ্ছে, কথা বলে অল্প সময়ের মধ্যে সমাধান করা হবে।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











