সৌদি আরবে কোরআন বিজয়ী হাফেজদের সংবর্ধনা প্রধানমন্ত্রীর: মেধাবীদের সঠিক মূল্যায়নের সুফল পাবে দেশ
সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় পুরস্কার বিজয়ী বাংলাদেশি হাফেজদের আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, মেধাবীদের কাজের উৎসাহ প্রদান এবং সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হলে তার ইতিবাচক সুফল ভোগ করবে আগামী প্রজন্ম। এর ফলে রাষ্ট্র ও দেশের সাধারণ মানুষ সার্বিকভাবে উপকৃত হবে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিজয়ী হাফেজদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই আন্তর্জাতিক অর্জন কেবল তাঁদের ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং পুরো বাংলাদেশের সব মুসলমানের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে দেশের সন্তানরা যা কিছু অর্জন করবে, রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে সরকার তার স্বীকৃতি নিশ্চিত করার নীতি অনুসরণ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মাদ্রাসার সমস্যা সমাধান ও সহযোগিতার আশ্বাস
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিজয়ী ক্বারী ও হাফেজদের শিক্ষকরা মাদ্রাসা শিক্ষার বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও সমস্যার কথা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী মনোযোগ দিয়ে তাঁদের বক্তব্য শেনেন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে সাধ্যমতো সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের নিয়মমাফিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
শান্তি প্রতিষ্ঠা ও পরিবর্তন আনার আহ্বান
দেশে স্থিতিশীলতা ও শান্তি ফিরিয়ে আনতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, কাজের ধরন আলাদা হলেও সবার মূল লক্ষ্য এক হওয়া উচিত, তা হলো জনগণের স্বাচ্ছন্দ্য ও শান্তি নিশ্চিত করা। দেশের মানুষের সার্বিক কল্যাণে সরকারের গৃহীত উদ্যোগে তিনি দেশবাসীর দোয়া ও সহযোগিতা চান। সংবর্ধনা শেষে বিজয়ী হাফেজদের হাতে বই উপহার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে বিজয়ী হাফেজরা প্রতিযোগিতায় পাঠ করা কোরআনের সুরেল তিলাওয়াত শুনান।
বিজয়ী ও অতিথিদের পরিচয়
সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় ১৩৩টি দেশের প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে সংবর্ধিত হন বাংলাদেশি প্রতিভাবানরা। এতে হাফেজ মোহাম্মদ জাকারিয়া ১৫ পারা হিফজ, তাজবীদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেন। ৩০ পারা বিভাগে তৃতীয় স্থান পান হাফেজ শেখ মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান আশরাফী। এছাড়া ১৫ পারা ও ৩০ পারা বিভাগে পৃথকভাবে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন যথাক্রমে হাফেজা রাবেতা বিনতে রমজান ও হাফেজা মুসফিরা বিনতে মাহমুদ।
অনুষ্ঠানে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, মাওলানা রফিকুল ইসলাম এবং বিজয়ী শিক্ষার্থীদের শিক্ষকমণ্ডলী উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











