ফিজিতে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে এইচআইভি, জারি হলো জাতীয় জরুরি অবস্থা

১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ১৯:৩৭
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
ফিজিতে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে এইচআইভি, জারি হলো জাতীয় জরুরি অবস্থা
ছবি: সংগৃহীত

প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র ফিজিতে এইচআইভি (HIV) ভাইরাসের বিস্তার আশঙ্কাজনক রূপ নেওয়ায় জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। সংক্রমণ প্রতিরোধ, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ ও রোগীদের উন্নত চিকিৎসার আওতায় আনতে দেশটির সরকার দেশজুড়ে সমন্বিত উদ্যোগ হাতে নিয়েছে।

সংক্রমণের ভয়াবহ চিত্র

১০ লাখেরও কম জনসংখ্যার দেশ ফিজিতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার হালনাগাদ তথ্যে উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। বর্তমানে দেশটির প্রতি ৬০ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে একজন এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত। মাত্র পাঁচ বছর আগেও এই হার ছিল প্রতি ১৬৭ জনে একজন। সংক্রমণ বাড়ার সাথে সাথে দেশটিতে নবজাতক মৃত্যুর ঘটনাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফিজির স্বাস্থ্যমন্ত্রী আন্তোনিও লালাবালাভু নিশ্চিত করেছেন, কেবল ২০২৫ সালেই নতুন করে ২ হাজার ১৬ জনের দেহে ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।

​স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ভাষ্যমতে, বর্তমান পরিস্থিতি কেবল সাধারণ রোগ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মাধ্যমে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জরুরি ভিত্তিতে বিস্তৃত পরিসরে স্বাস্থ্য কর্মসূচি পরিচালনা বাধ্যতামূলক হয়ে পড়েছে।

সংক্রমণ বৃদ্ধির পেছনে ঝুঁকিপূর্ণ অভ্যাস

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অনিরাপদ শারীরিক সম্পর্ক, একাধিক ব্যক্তির একই সুচ ব্যবহার করে ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণ এবং সহজে সুচ না পাওয়ার সংকটই এই সংক্রমণের প্রধান কারণ। একই সঙ্গে ‘ব্লুটুথিং’ বা ‘হটস্পটিং’ নামের এক চরম ঝুঁকিপূর্ণ প্রক্রিয়ায় মাদক সেবনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যেখানে পূর্ববর্তী ব্যক্তির ব্যবহৃত রক্ত নিজের শরীরে ইনজেক্ট করা হয়।

​এ সংকট দূর করতে ফিজি সরকার নিখরচায় সুচ ও সিরিঞ্জ বিতরণের উদ্যোগ নিচ্ছে। এ সংক্রান্ত আইনগত সংশোধন শেষ হলেই পর্যাপ্ত মজুত থাকা চিকিৎসা সামগ্রী বিতরণ শুরু হবে।

চিকিৎসায় অনীহা ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি

সামাজিক লজ্জা ও বৈষম্যের ভয়ে অনেক আক্রান্ত ব্যক্তি চিকিৎসা থেকে দূরে থাকছেন বলে সতর্ক করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। জাতিসংঘের এইচআইভি ও এইডসবিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইডস)-এর হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ফিজিতে প্রায় ৯ হাজার ১০০ জন ব্যক্তি এইচআইভি নিয়ে বসবাস করলেও মাত্র ৩৯ শতাংশ মানুষ নিজেদের আক্রান্তের খবর জানতেন। আর নিয়মিত চিকিৎসা সেবার আওতায় ছিলেন মাত্র ২২ শতাংশ রোগী, যেখানে বিশ্বব্যাপী এই গড় প্রায় ৭৮ শতাংশ।

​ফিজির জাতীয় এইচআইভি প্রতিরোধ টাস্কফোর্সের প্রধান জেসন মিচেল জানান, স্বাস্থ্য খাতের ওপর মারাত্মক চাপ তৈরি করা এই সংকট পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে অন্তত পাঁচ বছর বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে। এদিকে ফিজির সময়োপযোগী সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ইউএনএইডসের নির্বাহী পরিচালক উইনি বিয়নিমা বলেন, যেকোনো দেশে এইচআইভি সংক্রমণের পরিস্থিতি রাতারাতি বদলে যেতে পারে। তাই সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা সর্বদাই প্রস্তুত রাখা জরুরি।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0