বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদন প্রকল্প: প্রধানমন্ত্রীর সহায়তার আশ্বাস

১০ অক্টোবর ২০২৬ - ১৬:০৯
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদন প্রকল্প: প্রধানমন্ত্রীর সহায়তার আশ্বাস
ছবি: সংগৃহীত

মানববর্জ্য, পয়ঃশোধনাগারের বর্জ্য এবং কৃষিজ অবশিষ্টাংশ কাজে লাগিয়ে জ্বালানি তেল উৎপাদনের একটি নতুন প্রযুক্তির প্রদর্শনী পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) গবেষক দল বাণিজ্যিক পর্যায়ে নেওয়ার লক্ষ্যে এই উদ্ভাবনী প্রকল্পটি তৈরি করেছে। সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে এই উদ্যোগের মাধ্যমে আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেলের ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত চাহিদা মেটানো এবং বছরে সর্বোচ্চ ১৩ হাজার কোটি টাকা সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

​শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় প্রাঙ্গণে এই প্রকল্পের প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পটির সার্বিক অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত শোনেন এবং প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

​প্রদর্শনীর সময় কুয়েটের অধ্যাপক ও প্রকল্পের প্রধান গবেষক ড. মো. খালেকুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন। তিনি ‘হাইড্রোথার্মাল লিকুইফ্যাকশন’ বা এইচটিএল প্রযুক্তির মাধ্যমে মানববর্জ্য, রান্নাঘরের উচ্ছিষ্ট এবং কৃষিজ অবশিষ্টাংশ থেকে জৈব অপরিশোধিত তেল বা বায়োক্রুড উৎপাদনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। গবেষকদের দীর্ঘ প্রায় ১০ বছরের নিরলস গবেষণার ফলে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় বর্জ্য থেকে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বায়োক্রুড বা ডিজেলসমৃদ্ধ জ্বালানি তেল উৎপাদনে সাফল্য মিলেছে।

​গবেষক দলের পরবর্তী পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিদিন ১ থেকে ৩ টন বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের সক্ষমতা সম্পন্ন একটি পাইলট প্ল্যান্ট স্থাপন করা হবে। এই প্ল্যান্টের মাধ্যমে প্রযুক্তিটির বাস্তব কার্যকারিতা, উৎপাদন খরচ এবং বাণিজ্যিক সম্ভাব্যতা নিখুঁতভাবে যাচাই করা হবে। এই ধাপটি সম্পন্ন করতে প্রায় ১০০ থেকে ১২০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে বলে প্রাথমিক প্রাক্কলনে উঠে এসেছে।

​প্রকল্পটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে দেশের জ্বালানি খাতের আমদানিনির্ভরতা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে এবং একই সঙ্গে আধুনিক ও টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। এছাড়া পরিবেশদূষণ রোধ এবং দেশীয় জ্বালানি শিল্পের প্রসারেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

​প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল মাহমুদ টুকু, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) পাবলিক ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সদস্য অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন, কুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ মাছুদ এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0