মায়ের মৃত্যুতে ৫ ঘণ্টার প্যারোলে সাময়িক মুক্তি চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের

১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ১৮:১১
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
মায়ের মৃত্যুতে ৫ ঘণ্টার প্যারোলে সাময়িক মুক্তি চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের
ছবি: সংগৃহীত

মায়ের মৃত্যুর পর বাংলাদেশ সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে পাঁচ ঘণ্টার জন্য সাময়িক প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের অনুমোদনের পর বেলা ৪টায় তিনি চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বের হন।

​এর আগে দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক তাঁর এই প্যারোল মঞ্জুর করে প্রয়োজনীয় নির্দেশ প্রদান করেন।

​প্যারোলের আবেদন ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া

কারাগারে আটক চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মা মারা যাওয়ার পর তাঁর ভাই অঞ্জন কুমার ধর চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার কাছে প্যারোলে মুক্তির আইনি আবেদন জানান। আবেদনের ভিত্তিতে প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।

​জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানান, স্বজনদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই বিধি মোতাবেক প্যারোল মঞ্জুর করা হয়েছে। চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ তত্ত্বাবধায়ক ইকবাল হোসেন নিশ্চিত করেন, সংশ্লিষ্ট সব প্রশাসনিক আদেশ ও কাগজপত্র পৌঁছানোর পর বিকেল ৪টায় তাঁকে পাঁচ ঘণ্টার জন্য কারামুক্তি দেওয়া হয়।

​পারিবারিক পটভূমি ও মায়ের প্রয়াণ

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে ভুগছিলেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মা সন্ধ্যা রানী ধর (৭২)। তিনি চট্টগ্রামের মা ও শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত বুধবার রাতে তাঁকে হাটহাজারীর পুণ্ডরীক ধামে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই বৃহস্পতিবার সকালে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মূল স্থায়ী বাড়ি সাতকানিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নে। ক্যানসার আক্রান্ত মাকে দেখার জন্য চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের পরিবার আগে থেকেই কারাকর্তৃপক্ষের কাছে আবেদনের চেষ্টা করছিল। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট।

​সংশ্লিষ্ট মামলার পটভূমি

২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানায় জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে একটি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করা হয়। মামলাটি দায়ের করেন চান্দগাঁও মোহরা ওয়ার্ড বিএনপির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ খান (যাঁকে পরবর্তী সময়ে বিএনপি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়)। উক্ত মামলায় ২৫ নভেম্বর ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার হন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস।

​পরদিন ২৬ নভেম্বর তাঁর জামিন আবেদনকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যেখানে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম নিহত হন। পরবর্তীতে ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত আইনজীবীর বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে পৃথক হত্যা মামলা দায়ের করেন।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0