সৌদির কাছে ২৪.৩ বিলিয়ন ডলারে ৪৮টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রি করছে যুক্তরাষ্ট্র

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ১২:০৭
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
সৌদির কাছে ২৪.৩ বিলিয়ন ডলারে ৪৮টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রি করছে যুক্তরাষ্ট্র
ছবি: সংগৃহীত

হোয়াইট হাউসের বড় ধরনের সামরিক চুক্তি

সৌদি আরবের কাছে সর্বাধুনিক পঞ্চম প্রজন্মের ৪৮টি এফ-৩৫ স্টিলথ যুদ্ধবিমান বিক্রির একটি প্রস্তাবিত পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর দেশটির কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছে। প্রায় ২৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের এই ঐতিহাসিক চুক্তিটি চূড়ান্ত বাস্তবায়িত হলে, প্রথম কোনো আরব দেশ হিসেবে সৌদি আরব আমেরিকান এই অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান বহরে যুক্ত করার সুযোগ পাবে।

​মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, সম্ভাব্য এই অস্ত্র বিক্রয় প্রস্তাবটি মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ নন-ন্যাটো মিত্র সৌদি আরবের সুরক্ষা বলয় সুদৃঢ় করবে। একই সঙ্গে এটি যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা লক্ষ্য পূরণে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখবে।

দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক ও সামরিক আলোচনা

সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াশিংটন ও রিয়াদের নতুন প্রতিরক্ষা সহযোগিতার অংশ হিসেবে গত বেশ কিছু মাস ধরে এই চুক্তির আলোচনা এগোচ্ছিল। সম্প্রতি সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের হোয়াইট হাউস সফরের সময় কৌশলগত প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব চূড়ান্ত রূপ লাভ করে। এর পর থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব (কোয়ালিটেটিভ মিলিটারি এজ) যেন অক্ষুণ্ণ থাকে, তা পর্যালোচনা করে। এটি দ্রুত এগিয়ে নিতে মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা ক্যাপিটল হিলে একাধিক বৈঠক করেন এবং সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমানও চলতি গ্রীষ্মে কয়েক দফায় যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন।

আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ ও কূটনৈতিক হিসাব-নিকাশ

এমন এক সময়ে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই ঘোষণা এলো, যখন ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে সৌদি আরব ও এর সমর্থিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার কঠোর নিরাপত্তা চাপের মুখোমুখি। বর্তমানে হুথিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের বড় অংশের পাশাপাশি কৌশলগত বাব আল-মান্দাব প্রণালির একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখে সামরিক বিস্তার বজায় রেখেছে।

​অন্যদিকে, সৌদি আরবকে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান দেওয়ার বিষয়ে শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ফলে মার্কিন সরকারের এই সিদ্ধান্তটি তাঁর অবস্থানের জন্য একটি নীতিগত ধাক্কা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এছাড়া ওয়াশিংটনের প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা মহলের একটি অংশের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে যে, রিয়াদের হাতে উন্নত প্রযুক্তি হস্তান্তরিত হলে মার্কিন সামরিক গোপনীয়তা চীনের নাগালে চলে যাওয়ার ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0