ড্রোন হামলা রুখতে মাছ ধরার জাল! পাকিস্তানের পুলিশ ফাঁড়িতে অভিনব প্রতিরক্ষাব্যবস্থা

০৭ অক্টোবর ২০২৬ - ১১:০৩
2 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
ড্রোন হামলা রুখতে মাছ ধরার জাল! পাকিস্তানের পুলিশ ফাঁড়িতে অভিনব প্রতিরক্ষাব্যবস্থা
ছবি: সংগৃহীত

কম খরচে ড্রোন হামলার সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমাতে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে পাকিস্তানের আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী। দেশটির খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বিভিন্ন পুলিশ ফাঁড়ি ও সীমান্ত নিরাপত্তা চেকপোস্টে এখন ব্যবহার করা হচ্ছে মাছ ধরার জাল। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অত্যন্ত স্বল্প বাজেটে এ প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।

​হাঙ্গু জেলায় প্রথম প্রয়োগ

প্রদেশটির হাঙ্গু জেলায় প্রায় দুই মাস আগে পরীক্ষামূলকভাবে এই জাল ব্যবহারের কাজ শুরু হয়। ফাঁড়ির মূল ছাদ ও চারপাশের প্রাচীরের কয়েক মিটার ওপরে মাছ ধরার শক্তিশালী জাল টেনে ছাউনির মতো তৈরি করা হয়েছে।

​ক্ষয়ক্ষতি কমানোর হিসাব

স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, কম উচ্চতায় উড়ে আসা শত্রু ড্রোন চেকপোস্ট লক্ষ্য করে এগোলে তা সরাসরি ভবনে আঘাত না হেনে জালে আটকে যেতে পারে। এতে ড্রোনটি অকার্যকর বা থমকে যাওয়ার সুযোগ থাকে। পুলিশ কর্মকর্তা ফাইয়াজ খান জানান, কোনো ড্রোন জালের ওপর আছড়ে পড়ে বিস্ফোরিত হলেও তার মূল প্রভাব সরাসরি নিচে থাকা সদস্যদের স্পর্শ করবে না। ছড়াতে থাকা ধাতব টুকরা বাতাসের সঙ্গেই ছড়িয়ে পড়বে, ফলে হতাহতের ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসবে।

​উদ্যোগের নেপথ্যে টিটিপির হামলা

চলতি বছরের ১৬ এপ্রিল হাঙ্গুর সারকি পিয়ালা পুলিশ চেকপোস্টে বিস্ফোরকবাহী ড্রোন নিয়ে হামলা চালায় নিষিদ্ধ সশস্ত্র গোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)। ড্রোন হামলার পর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলে। ঐ ঘটনায় এক সাঁজোয়া যান চালক নিহত হন এবং এক পুলিশ সদস্য আহত হন। ওই চরম আতঙ্কজনক ঘটনার পর থেকেই ড্রোনের হাত থেকে বাঁচার বিকল্প উপায় হিসেবে এই ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়।

​ব্যয় ও অন্যান্য জেলায় সম্প্রসারণ

হাঙ্গুর জেলা পুলিশ কর্মকর্তা তারিক হাবিব জানিয়েছেন, একটি সাধারণ চেকপোস্টে এ ধরনের নেট বসাতে প্রায় ৪ লাখ পাকিস্তানি রুপি (প্রায় ১,৪৩৫ মার্কিন ডলার) খরচ পড়ে। কম খরচে প্রতিরক্ষামূলক কাজ করায় হাঙ্গুর পাশাপাশি কোহাট, কারাক, বান্নু, লাক্কি মারওয়াত এবং ডেরা ইসমাইল খান—এই পাঁচটি ঝুঁকিপূর্ণ জেলার ফাঁড়িগুলোতেও জাল বসানো হয়েছে। এছাড়া প্রদেশের কয়েকটি সামরিক ঘাঁটিতেও এ ব্যবস্থা দেখা গেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সারকি পিয়ালা চেকপোস্টে জাল বসানোর পর থেকে এখন পর্যন্ত আর কোনো ড্রোন আক্রমণের ঘটনা ঘটেনি।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0