পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে জিয়াউর রহমানের ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’

১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ১২:৫৯
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে জিয়াউর রহমানের ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান । ছবি: সংগৃহীত

২০২৭ শিক্ষাবর্ষের নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা সাহিত্য’ পাঠ্যবইয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লেখা ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ শীর্ষক নিবন্ধটি অন্তর্ভুক্ত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি নিবন্ধের সঙ্গে জিয়াউর রহমানের তৎকালীন একটি ডায়েরির আলোকচিত্রও যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

​জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্রে জানা গেছে, মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকথামূলক এই নিবন্ধটি পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্তির চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটি (এনসিসিসি)। এর আগে গত ২৪ আগস্ট মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এনসিসিসির সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

​এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা জানান, আগামী শিক্ষাবর্ষের নবম-দশম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য বইয়ে নিবন্ধটি অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে অনুমোদন পাওয়া গেছে। মুক্তিযুদ্ধে যার যতটুকু অবদান রয়েছে, তা নিরপেক্ষ ও নির্মোহভাবে শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ইতিহাসের দলিল ও ভূমিকা

পাঠ্যবইয়ের ২২ নম্বর গদ্যের লেখক পরিচিতি অংশে জিয়াউর রহমানকে মহান স্বাধীনতার ঘোষক, সাবেক রাষ্ট্রপতি, সেনাপ্রধান, জেড ফোর্সের অধিনায়ক, ১ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার এবং ‘বীর উত্তম’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। নিবন্ধটির ভিত্তি হিসেবে ১৯৭২ সালে ‘দৈনিক বাংলা’য় প্রকাশিত ‘একটি জাতির জন্ম’ এবং ১৯৮০ সালে ‘দৈনিক দেশ’-এ প্রকাশিত ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ প্রবন্ধ দুটিকে মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা কোনো একক ব্যক্তি বা দলের অর্জন নয়। একই সঙ্গে স্বাধীনতায় হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, মওলানা ভাসানী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জিয়াউর রহমান ও তাজউদ্দীন আহমদের ভূমিকাও স্বীকৃতি পেয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকথা

নিবন্ধটিতে ১৯৭১ সালের মার্চে চট্টগ্রাম থেকে সশস্ত্র বিদ্রোহের সূচনা, ‘উই রিভোল্ট’ বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া, পটিয়ায় মুক্তাঞ্চল গঠন এবং কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণার স্মৃতিচারণ করা হয়েছে। নিবন্ধে জিয়াউর রহমান লিখেছেন, “সবাই আমরা যুদ্ধ করেছি। সৈনিক, জনগণ সবাই। জাতির চরম সংকটের মুহূর্তে কাউকে না কাউকে সামনে এগিয়ে আসতে হয়। নিতে হয় দায়িত্ব। আমি কেবল সেই দায়িত্ব পালন করেছি।” নিবন্ধ অনুসারে, ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ সন্ধ্যায় কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তিনি স্বাধীনতার প্রথম আনুষ্ঠানিক ঘোষণাটি লিপিবদ্ধ করেন।

শিক্ষাবিদদের মতামত

জাতীয় অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ বলেন, নিবন্ধটির ঐতিহাসিক মূল্য অপরিসীম, যা শিক্ষার্থীদের স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস জানাতে সহায়তা করবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক শাহ শামীম আহমেদ উল্লেখ করেন, অতীতে রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে ইতিহাসচর্চায় একপাক্ষিকতা ছিল; নিবন্ধটি যুক্ত হওয়ায় নতুন প্রজন্ম বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস জানার সুযোগ পাবে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক জানান, তরুণ প্রজন্মকে ইতিহাস সচেতন করতে সর্বসম্মতিক্রমে নিবন্ধটি পাঠ্যক্রমে যুক্ত করা হয়েছে।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0