আমেরিকায় অপ্রত্যাশিত মজুদ বৃদ্ধিতে বিশ্ববাজারে কমলো তেলের দাম

১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ০৭:৪০
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
আমেরিকায় অপ্রত্যাশিত মজুদ বৃদ্ধিতে বিশ্ববাজারে কমলো তেলের দাম
ছবি রয়টার্স থেকে সংগৃহীত।

আমেরিকায় অপ্রত্যাশিতভাবে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মজুদ বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছে। সৌদি আরবের কৌশলগত পাইপলাইনে হামলার পর লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে তেল খালাস স্থগিত থাকায় যে সরবরাহের ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল, মার্কিন মজুদ বৃদ্ধির খবরে তা কিছুটা প্রশমিত হয়েছে।

​বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের দাম ব্যারেলে ৯৩ সেন্ট বা ০.৮৬ শতাংশ কমে ১০৭.৮২ ডলারে নেমে আসে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ৯৭ সেন্ট বা ০.৯২ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ১০৪.৮৬ ডলারে কেনাবেচা হচ্ছে।

সৌদি সংকট ও বিশ্ববাজারের উদ্বেগ

এর আগে মঙ্গলবার সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় উভয় পণ্যের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ ডলারেও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছিল, যা গত ১৯ মে-এর পর সর্বোচ্চ। সৌদি আরবের প্রধান 'ইস্ট-ওয়েস্ট' পাইপলাইনে ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের হামলার পর দেশটির সবচেয়ে বড় রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান ইয়ানবু বন্দর দিয়ে অপরিশোধিত তেল খালাস বন্ধ ঘোষণা করে। একই সঙ্গে ইউরোপে তেল সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ায় জ্বালানি বাজারে ঘাটতির আশঙ্কা তীব্র হয়ে ওঠে।

​সৌদি আরব এই পাইপলাইনের মাধ্যমে দৈনিক প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল (যা বিশ্বব্যাপী মোট সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশ) লোহিত সাগরের বন্দরে পাঠাত। মার্কিন জ্বালানি সচিব ইঙ্গিত দিয়েছেন যে কয়েক দিনের মধ্যেই ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন দিয়ে পুনরায় তেল সরবরাহ শুরু হতে পারে। তবে রয়টার্সকে দেওয়া তথ্যে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো ভিন্ন মত প্রকাশ করেছে; কারও মতে পূর্ণাঙ্গ মেরামতে ৫ থেকে ৬ সপ্তাহ সময় লাগতে পারে, আবার কেউ বলছেন আংশিক মেরামত শেষে দ্রুতই এটি পুনরায় সচল হতে পারে।

আমেরিকায় তেলের মজুদ বৃদ্ধি

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমার পেছনে আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের (এপিআই) প্রকাশিত তথ্য মূল ভূমিকা রেখেছে। গত ১১ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া সপ্তাহে দেশটিতে অপ্রত্যাশিতভাবে অপরিশোধিত তেলের মজুদ ৭.১ মিলিয়ন ব্যারেল বেড়েছে। অথচ বাজার বিশ্লেষকরা ধারণা করেছিলেন, এই সময়ে মজুদ প্রায় ১.৬ মিলিয়ন ব্যারেল কমবে। এছাড়া গ্যাসলিন ও ডিস্টিলেটের মজুদও বেড়েছে।

​হাইতোং ফিউচার্সের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মার্কিন মজুদ বেড়ে যাওয়ায় সাময়িকভাবে দাম কমেছে, তবে এটি বিশ্ববাজারের সার্বিক কড়াকড়ি বা আঁটসাঁট সরবরাহ পরিস্থিতির মূলচিত্র পরিবর্তন করে না।

লিবিয়ায় উৎপাদন অপরিবর্তিত

এদিকে লিবিয়ার জাতীয় তেল করপোরেশন (এনওসি) জানিয়েছে, হামাদা-জাবিয়া রপ্তানি পাইপলাইনের ভালভ পেট্রোলিয়াম ফ্যাসিলিটিস গার্ডের বিক্ষোভকারীরা বন্ধ করে দেওয়ায় তাদের তিনটি তেলক্ষেত্রের কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। তবে এনওসি-র চেয়ারম্যান মাসুদ সুলেমান জানান, এই পরিস্থিতির সত্ত্বেও দেশটির মোট জ্বালানি তেল উৎপাদনে বড় কোনো প্রভাব পড়েনি এবং দৈনিক উৎপাদন প্রায় ১৪ লাখ ব্যারেলেই বহাল রয়েছে।

সুত্র: রয়টার্স

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0