১১ বছরের ভয়াবহতম দাবানলে ইন্দোনেশিয়া: ধোঁয়াশায় ১ কোটি ২৫ লাখ মানুষ ঝুঁকিতে, ছড়িয়ে পড়ছে প্রতিবেশীতেও
ইন্দোনেশিয়ার বোর্নিও ও সুমাত্রা দ্বীপে ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ দাবানলে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে বিশাল এলাকা। গত ১১ বছরের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক এই দাবানলের কারণে সৃষ্ট বিষাক্ত ধোঁয়াশায় তীব্র স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ মানুষ। আবহাওয়াগত 'সুপার এল নিনো'র প্রভাবে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও খরা এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
দাবানলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বোর্নিও দ্বীপের পশ্চিম কালিমান্তান প্রদেশ। রাজধানী পনতিয়ানাকসহ আশপাশের এলাকাগুলো ঘন ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাফেরা কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় ৪৫ বছর বয়সী বাসিন্দা মিমি মার্লিনা জানান, মাস্ক পরে কেনাকাটা করতে গিয়েও তিনি শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। তার দুই সন্তান কাশি, গলা ব্যথা ও জ্বরে আক্রান্ত। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সমস্যার আশঙ্কা করছেন তিনি।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, বোর্নিও ও সুমাত্রার সাতটি প্রদেশে ধোঁয়াশার কারণে শ্বাসকষ্টজনিত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ১ সেপ্টেম্বর যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৫০,৮৯১, সেখানে ৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে ১,১৩,৩৩৬ জনে গিয়ে পৌঁছেছে। পনতিয়ানাকের একটি স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রধান পোপং সোলিহাত জানান, সেপ্টেম্বরের প্রথম ১১ দিনে তাদের ক্লিনিকে ১৮৭ জন রোগী শ্বাসকষ্টের চিকিৎসা নিয়েছেন, যেখানে আগস্টের পুরো মাসে এই সংখ্যা ছিল ৪২২। বর্তমানে দৈনিক ৮০ থেকে ১২০ জন রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো ‘রুমা ওকসিগেন’ (অক্সিজেন হাউস) কর্মসূচির মাধ্যমে আক্রান্তদের পাশে দাঁড়াচ্ছে। স্বেচ্ছাসেবীরা বাড়ি বাড়ি ও দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে অক্সিজেন সিলিন্ডার পৌঁছে দিচ্ছেন। পনতিয়ানাকের কুবু রায়া এলাকার ৫৪ বছর বয়সী বাসিন্দা সুরিয়ানা জানান, সকাল ও সন্ধ্যায় ধোঁয়ার তীব্রতা বাড়লে তার প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট হয়, যা নিয়ন্ত্রণে তিনি এই জরুরি অক্সিজেন ব্যবহার করছেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপার্নিকাস ক্লাইমেট মনিটরিং সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে ইন্দোনেশিয়ার দাবানল থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাসের পরিমাণ ছিল ১৯.৭ মিলিয়ন মেট্রিক টন—যা ওই সপ্তাহে বৈশ্বিক মোট নির্গমনের এক-তৃতীয়াংশের চেয়েও বেশি। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ২ লাখ ২ হাজার হেক্টর জমি ভস্মীভূত হয়েছে এবং উন্নয়ন সংস্থা ওয়াইকেএএন-এর হিসেবে আগস্টেই অতিরিক্ত ৬ লাখ হেক্টর বনভূমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সীমান্ত পেরিয়ে এই ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ এখন প্রতিবেশী সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়াতেও ছড়িয়ে পড়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ইন্দোনেশিয়া ৫০টিরও বেশি বিমান মোতায়েন করেছে, যা দিয়ে আকাশ থেকে পানি ছিটানো ও কৃত্রিম বৃষ্টির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক সহায়তার অংশ হিসেবে জাপান ৩টি সিএইচ-৪৭ চিনুক হেলিকপ্টার ও ১৮০ জন সদস্যের বিশেষ দল পাঠিয়েছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও পরিবেশগত ঝুঁকি
ভূখণ্ড সাফ করার উদ্দেশ্যে দেওয়া আগুনে সৃষ্ট এই ধোঁয়াশা পুরো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় পরিবেশগত ও স্বাস্থ্যগত সংকট তৈরি করেছে। আঞ্চলিক বায়ুদূষণ রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বিশেষজ্ঞরা
সুত্র : রয়টার্স
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











