আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে জ্বালানি তেলের সংকট হবে না: বিপিসি চেয়ারম্যান

১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ১১:৩৩
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে জ্বালানি তেলের সংকট হবে না: বিপিসি চেয়ারম্যান
ছবি সংগৃহীত

বিশ্ববাজারের নানামুখী প্রতিকূলতা সত্ত্বেও আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান ড. মো. রফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও বিকল্প সব মাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে সরকার দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কাজ করে যাচ্ছে।

​মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের সার্সন রোডে বিপিসির প্রধান কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক পরিচিতি ও মতবিনিময় সভায় তিনি এসব তথ্য জানান। নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বিপিসির পক্ষ থেকে এই সৌজন্য সভার আয়োজন করা হয়।

ভর্তুকির চাপ ও নীতিগত উদ্যোগ

বিপিসি চেয়ারম্যান উল্লেখ করেন, চলতি বছরের মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বেশি দামে তেল কিনে দেশের বাজারে কম দামে বিক্রি করতে হয়েছে। এর ফলে সরকারকে এ সময় প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়েছে। আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত জ্বালানি খাতে আরও প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি লাগতে পারে, যা সরকারের আমদানি ব্যয়ের ওপর বড় ধরণের চাপ সৃষ্টি করছে। তবে জনগণের সুবিধার কথা বিবেচনা করে সরকার এই আর্থিক চাপ বহন করছে।

​তিনি আরও জানান, জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে একটি নতুন নীতিমালা তৈরি করা হচ্ছে। এর আওতায় বেসরকারি খাতকেও পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির সুযোগ দেওয়া হবে, যাতে দেশজুড়ে তেলের যোগান ব্যাহত না হয়।

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা

আন্তর্জাতিক নৌপথের বর্তমান জটিলতা নিয়ে ড. রফিকুল ইসলাম বলেন, হরমুজ প্রণালী, বাব-এল-মানদেব এবং ইস্ট-ওয়েস্ট সমুদ্রপথ ঘিরে বৈশ্বিক সংকট তৈরি হয়েছে। বিপিসির বিদ্যমান সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে এই পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। দেশের দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়ে বিপিসি আন্তরিকভাবে কাজ করছে। আগামী ডিসেম্বরে থার্ড টার্মিনাল চালু হলে জ্বালানি সরবরাহে আরও গতি আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এলপিজি আমদানির অগ্রগতি

এলপিজি সরবরাহের সার্বিক পরিকল্পনা ব্যাখ্যা করে বিপিসি চেয়ারম্যান বলেন, এলপিজি আমদানিতে দুটি ধাপ রয়েছে। প্রথম ধাপে মাতাবাড়ীতে এফএসইউ-এর মাধ্যমে বাল্ক আকারের এলপিজি এনে পরবর্তীতে মার্কেটিং অপারেটরদের দেওয়া হবে। অন্যটি স্বল্পমেয়াদী আমদানি ব্যবস্থা। চুক্তি অনুযায়ী স্বল্পমেয়াদী ব্যবস্থার আওতায় চলতি মাসের শেষেই এলপিজির একটি পার্সেল দেশে পৌঁছাতে পারে। এছাড়া ভিএলজিসি-র মাধ্যমে বাল্ক আকারের জাহাজ চলতি বছরের শেষ দিকে বা আগামী বছরের জানুয়ারিতে দেশে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এ সংক্রান্ত ফিজিবিলিটি স্টাডি বা সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ বর্তমানে চলমান।

সুত্র: বাসস

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0