তেলের দাম ১০০ ডলার পার: বিশ্ববাজারে অস্থিরতা ও শঙ্কা

১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ১১:০৮
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
তেলের দাম ১০০ ডলার পার: বিশ্ববাজারে অস্থিরতা ও শঙ্কা
ছবি সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রুড অয়েল বা অপরিশোধিত তেলের দাম আবার ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার অতিক্রম করেছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে বন্ডের সুদহার বাড়ার পাশাপাশি নতুন করে মূল্যস্ফীতির শঙ্কা তৈরি হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক মুদ্রা বাজারগুলোতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের সতর্কতা ও মন্থর গতি লক্ষ্য করা গেছে।

​বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর পর থেকে ইরান ও মার্কিন সামরিক বাহিনীর মধ্যে বাণিজ্যিক জাহাজে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা তীব্র রূপ নিয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাপকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বুধবার তেলের দাম ১০০ ডলারের কোঠা ছাড়ায়। বর্তমানে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারস প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারের ওপরে অবস্থান করছে।

​বন্ডে প্রভাব ও ডলারের গতিপ্রকৃতি

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে বৈশ্বিক বন্ডের সুদহার আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। মার্কিন সরকারের ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদহার ২০২৩ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। দীর্ঘমেয়াদি বন্ড পুনর্ক্রয় (বাইব্যাক) কর্মসূচি প্রত্যাশানুযায়ী প্রভাব ফেলতে না পারায় এই সংকট আরও ঘনীভূত হয়।

​অন্যান্য প্রধান মুদ্রার বিপরীতে মার্কিন ডলারের সূচক কিছুটা কমে ৯৮.৭৩-এ নেমেছে। ডলারের মান কিছুটা শিথিল হওয়ায় ইউরো ও স্টার্লিং পাউন্ডের দর সামান্য বেড়ে যথাক্রমে ১.১৬৩৯ ডলার ও ১.৩৫৫৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, আগামী সপ্তাহে ব্যাংক অব জাপানের (বিওজে) সম্ভাব্য সুদের হার বাড়ানোর খবরের মধ্যে জাপানি ইয়েন ডলারপ্রতি ১৫৩.৩৫-এ উন্নীত হয়ে সাত মাসের উচ্চতার কাছাকাছি রয়েছে।

​ওয়েস্টপ্যাক ইনস্টিটিউশনাল ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা কৌশল বিভাগের প্রধান রিচার্ড ফ্রানুলোভিচ জানান, সংকটকালীন নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ডলারের শক্তিশালী হওয়ার কথা থাকলেও বাজারে তা ঘটছে না। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ ও বিশ্বব্যাপী কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর কঠোর নীতির প্রভাব এখানে স্পষ্ট।

​কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত ও মূল্যস্ফীতি সূচক

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক (ইসিবি) বৃহস্পতিবার চলতি বছরে দ্বিতীয়বারের মতো সুদের হার বাড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যাংক অব জাপান আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর সুদের হার বাড়িয়ে ১.২৫ শতাংশ এবং ২০২৭ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ১.৭৫ শতাংশ পর্যন্ত নির্ধারণ করতে পারে।

​অন্যদিকে, আগামী ১৫-১৬ সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের নীতি নির্ধারণী বৈঠকের আগে বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন বিনিয়োগকারীরা। বৃহস্পতিবারের উৎপাদক মূল্য সূচক (পিপিআই) এবং শুক্রবারের ভোক্তা মূল্য সূচক (সিপিআই) তথ্যের দিকে চোখ রাখছেন তারা। গত সপ্তাহে প্রকাশিত শক্তিশালী কর্মসংস্থান প্রতিবেদনের পর চলতি মাসে ফেড কর্তৃক সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা প্রায় ৬০ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে।

​এমইউএফজি (MUFG)-এর জ্যেষ্ঠ মুদ্রা বিশ্লেষক লয়েড চ্যান মনে করেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর নীতি প্রয়োজন হতে পারে, তবে সুদের হার বাড়ানো হলে সরকারের ঋণ নেওয়ার ব্যয় অনেক বৃদ্ধি পাবে।

​এদিকে অন্যান্য মুদ্রার মধ্যে নিউজিল্যান্ড ডলার ০.৩ শতাংশ বেড়ে ০.৫৮৫১ ডলারে দাঁড়িয়েছে এবং অস্ট্রেলিয়ান ডলার ০.৭২১৫ ডলারে স্থির রয়েছে। আর তেলের দাম বাড়ায় চীনে উৎপাদক ও ভোক্তা মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় দেশটির অফশোর ইউয়ানের মান ডলারপ্রতি ৬.৭০৫-এ অবস্থান করছে, যা প্রায় চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

সুত্র: রয়টার্স

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0