সুগন্ধি চাল রপ্তানির কোটা ৫০ শতাংশ কমাল সরকার
দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে চালের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমোদিত কোটা ৫০ শতাংশ কমিয়েছে সরকার। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে পূর্বে অনুমোদন পাওয়া ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানের বরাদ্দ করা কোটা অর্ধেকে পুনর্নির্ধারণ করা হয়। এই সংশোধিত সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে।
নতুন এই ব্যবস্থার ফলে বৃহৎ খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে মাঝারি ও ক্ষুদ্র—সব স্তরের রপ্তানিকারকরাই আগের অনুমোদিত পরিমাণের অর্ধেকের বেশি সুগন্ধি চাল বিদেশে পাঠাতে পারবেন না।
রপ্তানিতে ১০টি বাধ্যতামূলক শর্ত
কোটা কাটছাঁটের পাশাপাশি রপ্তানি কার্যক্রমে জবাবদিহি বাড়ানো, কড়া নজরদারি এবং বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আনা নিশ্চিত করতে ১০টি শর্ত আরোপ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়:
- নীতিমালা অনুসরণ: ‘রপ্তানি নীতি ২০২৪–২৭’–এর সব নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।
- কাস্টমস যাচাই: অনুমোদন ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে এবং প্রতি চালানের মান ও সত্যতা কাস্টমস কর্তৃপক্ষ যাচাই করবে।
- কাগজপত্র জমা: পণ্য জাহাজীকরণের পর সংশ্লিষ্ট সব নথিপত্র বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখায় জমা দিতে হবে।
- প্রকৃত হিসাব দাখিল: পরবর্তীতে নতুন অনুমোদনের আবেদনের ক্ষেত্রে পূর্বের বরাদ্দের বিপরীতে প্রকৃত রপ্তানির পূর্ণাঙ্গ প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে।
- সীমা লঙ্ঘন নিষিদ্ধ: সংশোধিত কোটার অতিরিক্ত কোনো চাল পাঠানো যাবে না।
- সর্বনিম্ন মূল্য নির্ধারণ: আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য সুরক্ষায় প্রতি কেজি চালের সর্বনিম্ন এফওবি (FOB) রপ্তানিমূল্য ১.৬০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।
- অহস্তান্তরযোগ্য: রপ্তানি অনুমোদন সম্পূর্ণ অহস্তান্তরযোগ্য করা হয়েছে।
- সাব-কনট্রাক্ট নিষিদ্ধ: কোনো অবস্থাতেই সাব-কনট্রাক্ট বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রপ্তানি করা যাবে না।
- বাতিলের এখতিয়ার: জনস্বার্থে সরকার যেকোনো সময় কারণ দর্শানো ছাড়াই এই অনুমোদন বাতিল করতে পারবে।
- মুদ্রা প্রত্যাবাসন সনদ: রপ্তানি আয় দেশে আসার প্রমাণ হিসেবে প্রসিডস রিয়ালাইজেশন সার্টিফিকেট (PRC) জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।
নিয়ন্ত্রিত রপ্তানির কৌশল
এর আগে দুই ধাপে ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ৪৫ হাজার ২৭০ মেট্রিক টন সুগন্ধি চাল রপ্তানির ছাড়পত্র দিয়েছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। তবে গত ৩০ আগস্ট পর্যন্ত ১২৯টি প্রতিষ্ঠান মোট ২ হাজার ৪১৯ মেট্রিক টন চাল রপ্তানি করতে সক্ষম হয়।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন জানান, সরকার চাল রপ্তানি পুরো বন্ধ করতে চায় না। বরং মূল লক্ষ্য হলো খাদ্য নিরাপত্তা ও দেশীয় বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রেখে একটি নিয়ন্ত্রিত ও টেকসই উপায়ে রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনা করা।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











