মাগুরায় ভুয়া সিআইডি সেজে নারী অপহরণের চেষ্টা, গ্রেপ্তার ৭
মাগুরার শ্রীপুরে সিআইডি পুলিশের ভুয়া পরিচয় দিয়ে এক তরুণীকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পাঁচ লাখ টাকার চুক্তিতে এই অপহরণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার সময় তাদের কাছ থেকে সিআইডি লেখা চারটি জ্যাকেট, একটি খেলনা পিস্তল, আটটি মুঠোফোন এবং ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে শ্রীপুর উপজেলার নাকোল গ্রামের পশ্চিমপাড়ায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পাগলা কানাই এলাকার আসমা খাতুন (৩১), ওসমান গনি (২৫), সাব্বির হোসেন (২২); পবহাটি এলাকার হাসানুজ্জামান হাসান (২৮); আরাপপুরের সালমান শাহ (২৫); আড়মুখ গ্রামের সাকিব হোসেন (২৩) এবং মাগুরার শালিখা উপজেলার দোবিলা গ্রামের আল আমীন হোসেন (২২)।
প্রাসঙ্গিক সংবাদ
বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে মাগুরার পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন জানান, মঙ্গলবার গভীর রাতে নাকোল এলাকায় একটি মাইক্রোবাসের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে পুলিশ গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি চালায়। তল্লাশি চলাকালে ভুয়া জ্যাকেট, খেলনা পিস্তল ও মুঠোফোনসহ গাড়িটি জব্দ করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, অভিযুক্তরা ঝিনাইদহ থেকে মাইক্রোবাসে করে নাকোল গ্রামের শ্রাবণী নামের এক নারীকে তুলে নিতে এসেছিলেন।
তদন্তে আরও উঠে আসে, প্রায় এক বছর আগে নাকোল গ্রামের মোস্তাক নামের এক যুবকের সঙ্গে শ্রাবণীর বিয়ে হয়। পরবর্তীতে তাদের বিচ্ছেদ ঘটলে তিনি ঝিনাইদহের শিমুল নামের এক যুবককে বিয়ে করেন। তবে সপ্তাহখানেক আগে সাবেক স্বামী মোস্তাক শ্রাবণীকে ফিরিয়ে আনেন। এরপর বর্তমান স্বামী শিমুল তাকে পুনরায় পেতে পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে এই ভুয়া সিআইডি চক্রকে ভাড়া করেন। চুক্তি অনুযায়ী, নকল জ্যাকেট ও পিস্তল দেখিয়ে জিম্মি করার উদ্দেশ্যে তারা গ্রামে ঢুকেছিল।
ঘটনায় জড়িত সাত গ্রেপ্তারকৃতের পাশাপাশি পরিকল্পনাকারী শিমুলের বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের শ্রীপুর থানায় হস্তান্তরের পর আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











