মহাকাশ স্টেশনে যাচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকার বিখ্যাত চায়ের বীজ
মহাকাশের চরম প্রতিকূল ও প্রতিকূলতার মাঝে পৃথিবীর উদ্ভিদ বা বীজ কেমন আচরণ করে, তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের আগ্রহের শেষ নেই। চাঁদ কিংবা মঙ্গলে ভবিষ্যতের মানববসতি গড়ে তোলার জন্য টেকসই উপায়ে খাদ্য উৎপাদনের পথ খুঁজছেন গবেষকেরা। এবার সেই মহাজাগতিক গবেষণার অংশ হিসেবে মহাশূন্যে পাড়ি জমাচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকার বিখ্যাত চায়ের বীজ।
দেশটির ঐতিহ্যবাহী ও বিশ্বখ্যাত ‘রুইবস’ (Rooibos) চায়ের বীজ আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) পাঠানো হচ্ছে। মহাকাশের পরিবেশ, ভরহীনতা (মাইক্রোগ্র্যাভিটি) ও মহাজাগতিক বিকিরণে এ বীজ কেমন প্রতিক্রিয়া দেখায়, তা পরীক্ষা করাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য। আফ্রিকার কোনো অঞ্চলের কোনো দেশীয় উদ্ভিদ বা বীজ নিয়ে মহাকাশে এ ধরনের পরীক্ষা এবারই প্রথম।
দক্ষিণ আফ্রিকান রুইবস কাউন্সিল সূত্রে জানা গেছে, ম্যাক্সআইকিউ স্পেস নামক একটি প্রতিষ্ঠানের কারিগরি সহায়তায় আগামী অক্টোবর মাসে এই মিশনটি পরিচালিত হতে যাচ্ছে। মহাকাশ ভ্রমণ শেষ করে বীজগুলো আগামী ডিসেম্বর বা ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাসের মধ্যে আবার পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা হবে।
রুইবস কাউন্সিলের পরিচালক ডাউই ডি ভিলিয়ার্স এ বিষয়ে বলেন, এটি মহাকাশে যাওয়া প্রথম আদিবাসী দক্ষিণ আফ্রিকান প্রজাতি এবং সামগ্রিকভাবে আফ্রিকা মহাদেশের প্রথম কোনো বীজ। বীজগুলোকে একটি বিশেষ ন্যানোল্যাবের ভেতর অন্তত ছয় সপ্তাহ রাখা হবে। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (STEM) শিক্ষায় তরুণদের উৎসাহিত করতে ম্যাক্সআইকিউ স্পেসের একটি কর্মসূচির অধীনে এক ডজনেরও বেশি শিক্ষার্থীর পরীক্ষার অংশ হিসেবে এ মিশনটি পরিচালিত হচ্ছে।
অভিযানের মূল উদ্দেশ্য হলো, বীজগুলোকে মাইক্রোগ্র্যাভিটি ও বিকিরণের মুখোমুখি করা। গবেষকেরা দেখতে চান, বীজগুলো মহাকাশের পরিবেশের সঙ্গে কীভাবে খাপ খাইয়ে নেয় এবং পৃথিবীর বাইরে মানুষের জন্য টেকসই খাদ্য উৎপাদনের কোনো সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে কি না। মহাকাশ থেকে বীজগুলো পৃথিবীতে ফিরে আসার পর সেগুলোকে সাধারণ মাটির বীজের পাশাপাশি রোপণ করা হবে। এরপর স্কুলের শিক্ষার্থীরা সেগুলোর অঙ্কুরোদগম ও বৃদ্ধির হারের মতো বিভিন্ন বিষয়ের পার্থক্য নিয়ে গবেষণা করবে। এ পরীক্ষা উদ্ভিদের ওপর মহাকাশের প্রভাবসংক্রান্ত বৈশ্বিক গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আফ্রিকান ভাষায় ‘রুইবস’ শব্দের অর্থ হলো ‘লাল ঝোপ’। এটি মূলত দক্ষিণ আফ্রিকার একটি অনন্য ও নিজস্ব উদ্ভিদ। এই গাছের পাতা থেকে একধরনের মিষ্টি ও ক্যাফেইন-মুক্ত চা তৈরি হয়, যা প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ এবং বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত জনপ্রিয়। ২০২১ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন রুইবসকে তাদের সুরক্ষিত পণ্যের তালিকায় যুক্ত করে। এর ফলে দক্ষিণ আফ্রিকার দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলের সিডারবার্গ এলাকায় উৎপাদিত পাতা ছাড়া অন্য কোনো পাতাকে ইউরোপের বাজারে ‘রুইবস’ নামে বিক্রি করা নিষিদ্ধ। রুইবস কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রতিবছর বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ২২ হাজার টন রুইবস উৎপাদিত হয়। এর প্রায় অর্ধেক অংশ দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে ব্যবহৃত হয় এবং বাকি অর্ধেক অংশ জাপান, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, ব্রিটেনসহ বিশ্বের ৫০টিরও বেশি দেশে রপ্তানি করা হয়।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











