ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন কঠোর আইনের তালিকায় চ্যাটজিপিটি ও রেডিট
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অনলাইন নিরাপত্তা সংক্রান্ত কঠোর নীতিমালার আওতায় এসেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্ল্যাটফর্ম চ্যাটজিপিটি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিট এবং অনলাইন গেমিং প্ল্যাটফর্ম রোবলক্স। সম্প্রতি ইউরোপীয় কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্ট (ডিএসএ)-এর অধীনে এই প্ল্যাটফর্মগুলোকে 'অতি বড় অনলাইন প্ল্যাটফর্ম' ও 'সার্চ ইঞ্জিন' হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
ব্যবহারকারীর সীমা ও শ্রেণিবিন্যাস
প্রতিষ্ঠানগুলোর দেওয়া তথ্যমতে, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে তাদের প্রতিটিরই মাসে অন্তত ৪ কোটি ৫০ লাখ (৪৫ মিলিয়ন) সক্রিয় ব্যবহারকারী রয়েছে। ডিএসএ-এর নিয়ম অনুযায়ী, এই সীমা অতিক্রম করায় তাদের ওপর ইউরোপীয় কমিশনের সর্বোচ্চ স্তরের আইনি তদারকি প্রযোজ্য হচ্ছে। কমিশন চ্যাটজিপিটিকে একটি 'অনলাইন সার্চ ইঞ্জিন' হিসেবে চিহ্নিত করেছে, কারণ এটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি ওয়েব অনুসন্ধানের ক্ষমতা রাখে। অন্যদিকে, ব্যবহারকারীদের তৃতীয় পক্ষের তথ্য ও কনটেন্ট প্রকাশ্যে প্রচারের সুযোগ দেওয়ায় রেডিট ও রোবলক্সকে 'অনলাইন প্ল্যাটফর্ম' হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
ঝুঁকি নিরসন ও অতিরিক্ত বাধ্যবাধকতা
নতুন এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় প্ল্যাটফর্ম তিনটি তাদের ওপর অর্পিত অতিরিক্ত নিরাপত্তা শর্ত পূরণ করতে চার মাস সময় পাবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিজেদের অ্যালগরিদম ও সেবার মাধ্যমে বেআইনি বা ক্ষতিকর উপাদান ছড়ানো প্রতিরোধে ঝুঁকি মূল্যায়ন ও নিরসন করতে হবে। পাশাপাশি অপ্রাপ্তবয়স্কদের সুরক্ষার পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি রোধ করা, মৌলিক অধিকার রক্ষা, রাজনৈতিক বা নির্বাচনি প্রক্রিয়ার সুরক্ষা এবং জননিরাপত্তা অক্ষুণ্ণ রাখার বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
তদন্ত ও নজরদারির ক্ষমতা
ইউরোপীয় কমিশন জানিয়েছে, এই নির্দেশনার মাধ্যমে তারা ডিজিটাল সেবাগুলোর অভ্যন্তরীণ ফিচার ও অ্যালগরিদম কীভাবে কাজ করছে, তা পরীক্ষা ও তদন্ত করার পূর্ণ আইনি ক্ষমতা অর্জন করবে। কমিশন সদস্য রাষ্ট্রগুলোর স্থানীয় ডিজিটাল সেবা সমন্বয়কারী কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় এই আইনি বাধ্যবাধকতা তদারকি করবে।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











