আমেরিকার সরকারি সংস্থায় চিনা হ্যাকিং, প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ ওয়াশিংটনের
নাসা, ফেডারেল রিজার্ভ ও বিচার বিভাগকে লক্ষ্য করে অন্তত ২০১৮ সাল থেকে পরিচালিত হচ্ছিল সাইবার হামলা
আমেরিকার বিচার বিভাগ, নাসা, ফেডারেল রিজার্ভ এবং সেনেটসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর সরকারি সংস্থায় সাইবার হামলার চেষ্টার পেছনে থাকা একটি চিনা হ্যাকিং নেটওয়ার্ক নিষ্ক্রিয় করার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন।
বুধবার (২৬ আগস্ট ২০২৬) যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, এই সাইবার অভিযানের সঙ্গে যুক্ত ‘কিউস্ক্যান’ (QScan) এবং ‘কিউটিরউটার’ (QTRouter) নামে দুটি প্রধান হ্যাকিং প্ল্যাটফর্মের ব্যবহৃত ডোমেইনগুলো তারা বাজেয়াপ্ত করেছে। আদালতের এক হলফনামায় (Affidavit) উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই হ্যাকিং প্রক্রিয়ায় মার্কিন জ্বালানি বিভাগ, স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ (এনআইএইচ) এবং যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার চারটি অজ্ঞাত বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্যানুযায়ী, এই হ্যাকিং প্ল্যাটফর্ম দুটি পরিচালনা করত চীনভিত্তিক সংস্থা 'নানজিং সিনজিউওয়েই নেটওয়ার্ক টেকনোলজি কোম্পানি' (Nanjing Xinjiuwei Network Technology Company)। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান গ্রাহকদের তালিকায় চীনের বেসামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ‘মিনিস্ট্রি অব স্টেট সিকিউরিটি’ এবং দেশটির সশস্ত্র বাহিনী ‘পিপলস লিবারেশন আর্মি’ রয়েছে।
দীর্ঘমেয়াদি সাইবার হামলা ও কার্যপ্রণালী
মামলার হলফনামায় বলা হয়েছে, অন্তত ২০১৮ সাল থেকে সাইবার অপরাধীরা নিজস্ব তৈরি প্রযুক্তি ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বজুড়ে নানা গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও স্পর্শকাতর নেটওয়ার্ক ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা চালিয়ে আসছে।
এই হ্যাকিং চেষ্টার ধরন ছিল বৈচিত্র্যময়। যেমন, ২০১৯ সালের আগস্টে ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্কের (ভিপিএন) দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে নাসার নেটওয়ার্কে ঢোকার ব্যর্থ চেষ্টা করেছিল হ্যাকাররা। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তারা মার্কিন জ্বালানি বিভাগের তিনটি গবেষণাগার, এনআইএইচ, একটি স্বাস্থ্য সংস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি নিরাপত্তা প্রযুক্তি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সাইবার ব্যবস্থায় অনুপ্রবেশ ঘটায়।
সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান 'সেন্টিনেলওয়ান'-এর চীন বিষয়ক বিশ্লেষক ডাকোটা ক্যারি এই ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, "গত এক দশকে অফেনসিভ সাইবার সেবা দেওয়া বিশেষায়িত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।" বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীনের বিভিন্ন সরকারি সংস্থার হয়ে নিয়মিতভাবে এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের সাইবার অনুপ্রবেশের কাজ করে থাকে দেশটির বেসরকারি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলো।
এই অভিযানের বিষয়ে ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীন দূতাবাস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে বেইজিং অতীতে এ ধরনের সাইবার হামলার সব অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে। পাশাপাশি সাধারণ কর্মঘণ্টার বাইরে হওয়ায় নানজিং সিনজিউওয়েই নেটওয়ার্ক টেকনোলজির পক্ষ থেকেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সুত্র : রয়টার্স
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











