সোশ্যাল মিডিয়ায় আসক্তি: মার্কিন আদালতে ৩ হাজার মামলার মুখোমুখি মেটা, গুগল ও টিকটক
তরুণ ব্যবহারকারীদের সুরক্ষায় বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি আপিল আদালত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে আসক্তিকর হিসেবে নকশা করার অভিযোগে টেক জায়ান্ট মেটা, অ্যালফাবেটের নিয়ন্ত্রণাধীন গুগল, বাইটড্যান্সের টিকটক এবং স্ন্যাপচ্যাটের বিরুদ্ধে দায়ের করা হাজার হাজার মামলাকে বিচার প্রক্রিয়ায় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সান ফ্রান্সিসকোভিত্তিক মার্কিন নবম সার্কিট আপিল আদালত সম্প্রতি মেটা ও টিকটকের আনা এক আপিল আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। তারা তিন হাজারের বেশি মামলা শুনানির নিম্ন আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ করেছিল। বিচারক প্যানেল জানিয়েছে, কোম্পানিগুলো নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই এই আবেদনটি করেছে।
টেক প্রতিষ্ঠানগুলো ১৯৯৬ সালের 'কমিউনিকেশনস ডিসেন্সি অ্যাক্ট'-এর 'সেকশন ২৩০' ধারার অজুহাত দেখিয়ে মামলাগুলো থেকে রেহাই চেয়েছিল। উল্লেখ্য, এই ধারাটি মূলত প্ল্যাটফর্মে ব্যবহারকারীদের দেওয়া কনটেন্টের আইনি দায় থেকে সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিগুলোকে সুরক্ষা দেয়। কোম্পানিগুলোর দাবি ছিল, প্ল্যাটফর্মের আসক্তিকর প্রকৃতির বিষয়ে জনগণকে সতর্ক করতে না পারার ক্ষেত্রেও এই সুরক্ষা প্রযোজ্য। তবে আপিল আদালত স্পষ্ট করেছে যে, সেকশন ২৩০ মামলা চলাকালীন একটি আইনি আত্মরক্ষার যুক্তি হতে পারে, কিন্তু এটি সরাসরি মামলা করা থেকে পূর্ণাঙ্গ অনাক্রম্যতা (Immunity) বা ছাড় দেয় না।
বিচার পেছানোর মেটার আবেদন বাতিল
এদিকে ২৯টি অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলদের আনা পৃথক একটি মামলার বিচার প্রক্রিয়া পিছিয়ে দেওয়ার জন্য মেটার করা আবেদনও আদালত নাকচ করে দিয়েছে। মেটার বিরুদ্ধে শিশুদের তথ্য অবৈধভাবে সংগ্রহ ও ব্যবহার করা, তরুণদের আসক্ত রাখতে প্ল্যাটফর্ম ডিজাইন করা এবং গ্রাহকদের কাছে নিরাপত্তার মিথ্যা আশ্বাস দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এর আগে নিউ মেক্সিকোর এক বিচারক মেটাকে পাবলিক নুইসেন্স (জনদুর্ভোগ) সৃষ্টির জন্য দায়ী করে কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্য তহবিলে ৫৬৭ মিলিয়ন ডলার জমা দিতে এবং তরুণদের সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
কাঠগড়ায় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য, পৌরসভা, স্কুল ডিস্ট্রিক্ট ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে এসব মামলা দায়ের করা হয়। এতে অভিযোগ করা হয়, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো জেনেশুনেই তরুণদের প্ল্যাটফর্মে আসক্ত করে তুলছে, যা তাদের মধ্যে হতাশা, দুশ্চিন্তা ও মানসিক স্বাস্থ্য সংকটের জন্ম দিচ্ছে।
মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবীরা এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই উন্মোচিত হবে সোশ্যাল মিডিয়ার ক্ষতিকর দিকগুলো সম্পর্কে মেটা কতটুকু জানত এবং তারা সে ব্যাপারে কী ব্যবস্থা নিয়েছিল। বর্তমানে ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডে ইউএস ডিস্ট্রিক্ট বিচারক ইভন গঞ্জালেস রজার্সের আদালতে এসব মামলার কেন্দ্রীয় শুনানি চলছে।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











