নাসার রোমান স্পেস টেলিস্কোপের উৎক্ষেপণ: সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের ফোন, উন্মোচিত হবে মহাবিশ্বের গোপন রহস্য

৩১ আগস্ট ২০২৬ - ০০:১৩
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
নাসার রোমান স্পেস টেলিস্কোপের উৎক্ষেপণ: সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের ফোন, উন্মোচিত হবে মহাবিশ্বের গোপন রহস্য
ছবি :রয়টার্স, (সংগৃহীত)

মহাকাশের অজানা রহস্য উন্মোচনে নতুন যুগের সূচনা করল মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা (NASA)। সংস্থাটির নতুন ফ্ল্যাগশিপ 'ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ'-এর সফল উৎক্ষেপণের পর আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আকস্মিক ফোন করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

​ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল থেকে টেলিস্কোপটি সফলভাবে মহাকাশে পাড়ি দেওয়ার পর নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যানের মোবাইলে কল করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। আইজ্যাকম্যান ফোনটি স্পিকারের মাধ্যমে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন। ফোনালাপে ট্রাম্প উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, "টেলিভিশনে দৃশ্যটি দেখতে অত্যন্ত চমৎকার লাগছিল।" তিনি নাসার কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ২০২৬ সালে সংস্থাটির বরাদ্দকৃত প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলারের বাজেটের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, এই অর্থের জোগান তিনিই নিশ্চিত করছেন।

​উল্লেখ্য, হোয়াইট হাউস থেকে এর আগে নাসার বাজেট থেকে প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার ছাঁটাইয়ের প্রস্তাব করা হলেও শেষ পর্যন্ত তা কার্যকর হয়নি। ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম ও দ্বিতীয় মেয়াদেই এই রোমান টেলিস্কোপ প্রকল্পের তহবিল কমানো বা এটি বাতিলের একাধিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও মার্কিন কংগ্রেসের সমর্থনে প্রকল্পটি রক্ষা পায়। অবশেষে নির্ধারিত সময়ের প্রায় নয় মাস আগেই টেলিস্কোপটি উৎক্ষেপণ করা সম্ভব হলো।

​ওয়েব ও রোমান টেলিস্কোপের পর্যবেক্ষণে পার্থক্য

বিজ্ঞানীদের মতে, ২০২১ সালে উৎক্ষেপণ করা জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও গভীর। এটি মহাবিশ্বের একদম আদিভাগের বিরল গ্যালাক্সি ও তারা পর্যবেক্ষণ করতে সমর্থ।

​অন্যদিকে, রোমান টেলিস্কোপের মূল বিশেষত্ব হলো এর বিস্তৃত বা প্যানোরামিক দৃষ্টিসীমা। জ্যেষ্ঠ প্রকল্প বিজ্ঞানী জুলি ম্যাকএনেরি বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করে বলেন, "ওয়েব মহাবিশ্বের সুদূর গভীরে গিয়ে দুর্লভ জিনিস খুঁজে বের করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। আর রোমান সেই গভীর পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি একটি বিস্তৃত ক্যানভাস তৈরি করবে, যা ওয়েবের কাজকে পূর্ণতা দেবে।" নাসা জেমস ওয়েবকে ক্যামেরার জুম লেন্সের সঙ্গে এবং রোমানকে ওয়াইড-অ্যাঙ্গেল লেন্সের সঙ্গে তুলনা করেছে।

​ডার্ক এনার্জি, ডার্ক ম্যাটার ও বহির্গ্রহের অনুসন্ধান

রোমান স্পেস টেলিস্কোপের অন্যতম মূল কাজ হবে মহাবিশ্বের দুটি সবচেয়ে বড় রহস্য—'ডার্ক এনার্জি' এবং 'ডার্ক ম্যাটার' নিয়ে গবেষণা করা। আনুমানিক ১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে 'বিগ ব্যাং'-এর মাধ্যমে মহাবিশ্বের সৃষ্টি হওয়ার পর থেকে এটি প্রতিনিয়ত প্রসারিত হচ্ছে। এই প্রসারণের গতিকে ত্বরান্বিত করছে অদৃশ্য এক শক্তি, যাকে বিজ্ঞানীরা 'ডার্ক এনার্জি' বলে ধরে নিয়েছেন।

​নাসার হিসাব অনুযায়ী, মহাবিশ্বে দৃশ্যমান সাধারণ বস্তু (যেমন নক্ষত্র, গ্রহ, গ্যাস ও ধূলিকণা) রয়েছে মাত্র ৫ শতাংশের মতো। বাকি উপাদানের মধ্যে প্রায় ২৭ শতাংশ ডার্ক ম্যাটার এবং ৬৮ শতাংশজুড়েই রয়েছে ডার্ক এনার্জি।

​রোমান টেলিস্কোপ টানা এক বছরের বেশি সময় ধরে জরিপ চালিয়ে ২০০ কোটিরও বেশি গ্যালাক্সির একটি পূর্ণাঙ্গ ৩ডি (ত্রিমাত্রিক) মানচিত্র তৈরি করবে। মহাবিশ্বজুড়ে ডার্ক ম্যাটারের মহাকর্ষীয় টান এবং ডার্ক এনার্জির প্রসারণ ক্ষমতা মেপে এই দুই রহস্য সমাধানের অত্যন্ত কাছাকাছি পৌঁছাতে পারবেন গবেষকরা। এছাড়া, রোমান স্পেস টেলিস্কোপটি আমাদের সৌরজগতের বাইরের হাজার হাজার নতুন গ্রহ (বহির্গ্রহ বা এক্সোপ্ল্যানেট) অনুসন্ধানেও বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0