‘অলৌকিক’ কড়ই গাছ কেটে দিল প্রশাসন, শেষ হলো কৌতূহল ও বিতর্ক

07 জুন 2026 - 03:19
প্রকাশিত: 10 ঘন্টা আগে
0 7
‘অলৌকিক’ কড়ই গাছ কেটে দিল প্রশাসন, শেষ হলো কৌতূহল ও বিতর্ক
‘অলৌকিক’ কড়ই গাছ কেটে দিল প্রশাসন, শেষ হলো কৌতূহল ও বিতর্ক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার বচিয়ারা গ্রামে আলোচিত সেই কড়ই গাছকে ঘিরে কয়েক দিন ধরে চলা নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটেছে। শুক্রবার (৫ জুন) সকালে প্রশাসনের উদ্যোগে গাছটি কেটে ফেলা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের মুন্সী বাড়ির প্রায় ৩০ বছর বয়সী কড়ই গাছটি এক মাস আগে কালবৈশাখী ঝড়ে হেলে পড়ে। পরে গাছটির ডালপালা ছাঁটাই করার পর ভাঙা ও হেলে থাকা অংশটি আবার সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যায় বলে দাবি করেন স্থানীয়রা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ‘অলৌকিক’ নানা গল্প ছড়িয়ে পড়ে এবং গাছটি নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা।

ঘটনার পর কিছু মানুষ গাছটির গোড়ায় মোমবাতি জ্বালিয়ে মানত করতে শুরু করেন। খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রতিদিন শত শত মানুষ গাছটি দেখতে সেখানে ভিড় জমাতে থাকেন। তবে প্রশাসন ও সচেতন মহল শুরু থেকেই বিষয়টিকে কুসংস্কার ও ভিত্তিহীন প্রচারণা হিসেবে দেখছিল।

শুক্রবার সকালে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কফিল উদ্দিন মাহমুদ-এর নেতৃত্বে, আখাউড়া থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় গাছটি কেটে ফেলা হয়।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গাছটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল এবং যেকোনো সময় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারত। জননিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে গাছটির মালিক, প্রবাসী নুরুল আমিন মুন্সী, প্রশাসনকে গাছটি কেটে স্থানীয় মসজিদে দান করার সিদ্ধান্তের কথা জানান।

গাছ কাটার সময় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই এটিকে গুজব ও কুসংস্কার দূর করার ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানান। তবে কয়েকজন যুবক গাছটি কাটার বিরোধিতা করার চেষ্টা করেন বলে জানা গেছে।

গাছ কাটার কাজে অংশ নেওয়া কাঠুরিয়া মো. আমিন মিয়া বলেন, ঝড়ে গাছটি শিকড়সহ হেলে পড়েছিল। পরে ডালপালা কেটে দেওয়ায় ভারসাম্য পরিবর্তন হওয়ায় এটি আবার সোজা হয়ে দাঁড়ায়। এতে অলৌকিক কোনো ঘটনা নেই, বরং এটি স্বাভাবিক প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার ফল।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কফিল উদ্দিন মাহমুদ বলেন, গাছটিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার ও ভুল ব্যাখ্যা ছড়িয়ে পড়ছিল। পাশাপাশি জননিরাপত্তার ঝুঁকিও ছিল। তাই পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় গাছটি অপসারণ করা হয়েছে। গাছের মালিকও ভিডিও কলে গাছটি কেটে মসজিদে দান করার অনুমতি দিয়েছেন।

গাছটি অপসারণের মধ্য দিয়ে আখাউড়ার আলোচিত ‘অলৌকিক’ কড়ই গাছকে ঘিরে কয়েক দিনের রহস্য, কৌতূহল ও বিতর্কেরও সমাপ্তি ঘটেছে।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0

মন্তব্য করুন (0)

User